ব্লাডিমেরি

 ভূত বিশ্বাস করেন?

ইউরোপে একটা প্রাচীন কুসংস্কার আছে। অন্ধকার বাথরুমে মোম বাতি জ্বালিয়ে আয়নার দিকে তাকিয়ে ১৩ বার "ব্লাডিমেরি"এই শব্দটা যদি উচ্চারণ করা যায়, তবে আয়নাতে ভয়ানক চেহারারর নারীর প্রেতাত্মা দেখা যায়।
এটা একধরনের প্রেতচর্চা। অধিকাংশই দাবি করেন, এটা সত্যি। তারা নাকি দেখেছেন। ধারনা করা হয়, ইংল্যান্ডের সাবেক রানী মেরি টিউডরের প্রেতাত্মা এটা।
আজ চেষ্টা করলাম। অন্ধকার বাথরুমে গা ছমছম করছিলো। মোম বাতি ধরালাম। জীবনে প্রথমবার টের পেলাম, শরীর অবশ হয়ে আসছে।চারপাশ ঘোলাটে লাগছে।
আমি আয়নার দিকে তাকিয়ে বললাম, ব্লাডিমেরি। ফিশফিশ করে ১৩ বার বললাম মোট।
আমি এসব কুসংস্কারে কখনোই বিশ্বাস করিনা। জানি, এগুলো ভুয়া কথা। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বের হতে যাচ্ছি, এসময় হঠাত মাথার উপর টিকটিকি ডেকে উঠলো।
আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই ভয়ংকর রাতের কথা কোনোদিন ভুলবোনা। আমি জানিনা আপ্নারা কিভাবে আমার এই কথাটা নিবেন, মোম বাতি দপদপ করে কাপতে থাক্লো। আয়নার দিকে তাকাতে পারছিলাম না।
আমি টের পেলাম, দরদর করে ঘামছি। শিরদাঁড়া দিয়ে ভয়ের শীতল স্রোত নেমে আসছিলো। মনের সবটুকু শক্তি নিয়ে আয়নার দিকে তাকালাম। যা দেখলাম, আমি জানি আপ্নারা বললে বিশ্বাস করবেন না।
ভয়ংকর দর্শন এক মহিলা কুতসিত দাতগুলো বের করে আমার দিকে তাকিয়ে ছিলো। চেহারার ঘা থেকে পুজ গড়িয়ে পড়ছিলো। ওর চোখ দুইটা জ্বলজ্বল করছিলো। এতো ভয়ংকর চেহারা কারো থাকতে পারে, জানা ছিলোনা। আয়না থেকে হাত ২ টা বের হয়ে আসলো। আমি আর পারছিলাম না। টের পাচ্ছিলাম, অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছি। কুতসিত হাত ২ টা আমার গলার দিকে এগিয়ে আসছিলো। শ্বাস নিতে পারছিলাম না।
শুনলাম, আমাকে ফিশফিশ করে বলছে............
জুন মাসের ১ তারিখ, রাত ১২ টা অলরেডি বেজে গেলো। তুই এখনো সিম বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন করিস নাই। তোর এখন কি হবে রে ফইন্নি?

মিশরের পিরামিড

ফারাও রাজারদের সমাধিগুলোর রুমগুলো খুবই সতর্কতার সাথে সীল করে দেয়া হতো এবং এ সমাধির মূল্যবান দ্রব্য রক্ষা করার জন্য তখনকার মিশরের শ্রেষ্ঠ আর্কিটেক্টরা চোরদের ধোকা দেয়ার উপযোগি ডিজাইন করার দায়িত্ব পেত। মাঝে মাঝে প্যাসেইজ ওয়েগুলো বন্ধ করার জন্য বিশাল এবং মজবুত গ্রানাইটের প্লাগ ব্যবহার করা হতো। চোরদেরকে দমন করার জন্য নকল দরজা, গোপন রুম ইত্যাদি অসংখ্য ব্যবস্থার পরও প্রায় ক্ষেত্রেই সমাধির প্রবেশ প্রথে অভিশাপ মন্ত্র দিয়ে নিরাপদ করে দেয়া হত।

কিন্তু কালক্রমে পূর্ব-সাবধানতা মূলক পরিকল্পনাগুলোর বেশির ভাগই ব্যর্থ হয়েছিল। প্রাচীন যুগের চোর এবং ডাকাতেরা তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে ঠিকই সমাধির পথ খুজে বের করতে এবং সকল ধন-সম্পত্তি আত্নসাৎ করতে সক্ষম হয়েছিল।

ভূতুড়ে কাহিনী ৪৫ : চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক গ্রামের ঘটনা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার এক গ্রামের ঘটনা।

সেই গ্রামের একবারে পূর্ব পাশে একটা ঘর নিয়ে থাকতো শরিফা বিবি। স্বামী পরিতক্তা মেয়েমানুষ। সারাদিন মানুষের বাড়িতে ফুটফরমাশ খেটে যেই টাকা পেতো তা দিয়েই দিন কেটে যেতো। ছোট একটা মেয়ে ছিল শরিফার। বয়স ১১ বছর। সেই মেয়েকে নিয়েই গ্রামের একদম শেষ মাথার ঘরটিতে থাকতো সে।
যাই হোক, ঠিক তাদের বাড়িটার পাশেই একটা বিরাট আকারের বেল গাছ ছিল। সেই বেল গাছ নিয়ে গ্রামে নানান কথা প্রচলিত ছিল। মাঝে মাঝেই নাকি সেই গাছের নিচে একটা লোককে বসে থাকতে দেখা যেতো। লোকটিকে যখনই দেখা যেতো তখনই নাকি দূরে কোথাও কুকুর কাঁদার আওয়াজ পাওয়া যেতো।
মার্চ মাসের কোনও এক রবিবারে শহর থেকে নিজেদের দোকানের জন্য কেনাকাটা করে ফিরছিল একদল গ্রাম্য দোকানদার। সংখ্যায় তারা ১২-১৫ জনের মতো ছিলেন। রাত তখন ১১ টার মতো হবে। শরিফাদের বাসার সন্নিকটে আসতেই তারা দেখতে পেলেন, সেই গাছের নিচে লোকটি বসে আছে এবং লোকটিকে ঘিরে আছে একদল মানুষ আকৃতির ছায়ামূর্তি। প্রতিটা ছায়ামূর্তি আঁকারে যেকোনো মানুষের প্রায় দ্বিগুণ। তারা সবাই দেখে দম বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকেন। মিনিট খানেক পরে একসময় ছায়ামূর্তিগুলো ভাসতে ভাসতে সেই গাছের উপরে উঠে মিলিয়ে যায় এবং এর খানিকপর লোকটিকে আজ দেখা যায় না। ঠিক সে সময় তাদের চমকে দিয়ে শরিফার ঘর থেকে ভয়ঙ্কর আর্তনাদের আওয়াজ ভেসে আসে। তারা প্রত্যেকেই ভয় পেয়ে যায় এবং দ্রুত সেই স্থান ত্যাগ করে।
পরের দিন সকালে স্থানীয় কিছু মানুষ হাতে লাঠি সোটা নিয়ে সেই ঘরের দিকে গেলে ঘরের মেঝেতে শরিফা এবং তার মেয়ের মাথাবিহীন লাশ খুঁজে পায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাদের মাথাগুলো পাওয়া যায় সেই গাছের মগডালে। ঠিক যেখানে তার আগের রাতে লোকগুলো ঐসব ছায়ামূর্তি কে হারিয়ে যেতে দেখেছিল।
সেই ঘরটি এখনো আছে। বেল গাছটি এরপর কেটে ফেলা হয়। শোনা যায়, বেল গাছটি কাঁটার পর নাকি সেই মাটির নিচ থেকে একটা বস্তার ভিতর থেকে একটি কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। লোকটাকে কেউ মেরে সেই গাছের নিচে চাপা দিয়ে রেখেছিলো। হয়তো অপঘাতে মরা কোনও ব্যাক্তি, যার শান্তি হয়নি কখনো।

হোস্টেলের ভূত

 হোস্টেলের ভূত

আমার এক বন্ধুর ফুফাত ভাই সিহাব খুলনায় থেকে লেখাপড়া করে। ভার্সিটি পরার সুবিধার জন্য ওনাকে হলে থাকতে হয়। বর্তমানে মজিদ হলে থাকলেও আগের হলে তার সাথে যা ঘটেছে তা আজ শেয়ার করছি~
* হল বললে ভুল হবে ওটা ছিল একটা ম্যাচ হোস্টেলের মত। তারা বেশ কিছুজন ঐ ম্যাচে থাকত। বাড়িটা দেখলে নতুন মনে হবে কারন পেইন্ট করে পুরনো বাড়িটাকে নতুন করা হয়েছে। বলে রাখা ভালো ভাইয়ার রুমে ঢোকার দরজা এমন যে আগে রুমের একটা জানলা পড়ে যেটা দিয়ে রুমের ভেতর সম্পূর্ণ খুব ভালভাবে দেখা যায়। তো একদিন দুপুর বেলা ভাইয়া গোসল করে রুমে ঢোকার সময় একবার ভিতরে তাকান। দেখতে পান তার বেডে কেউ একজন শুয়ে বই পড়ছে। কিন্তু রুমে ঢুকে দেখেন তার বেডে কেউ নেই। পাশের বেডের ছেলেকে জিজ্ঞেস করায় সে বলল তার বেডে কেউ ছিলনা।
ঘটনা এখানেই শেষ হলে বলা যেত ভাইয়া চোখে ভুল দেখেছে কিন্তু অবাস্তব ঘটনা আরো ঘটতে থাকে।
* ওই ঘটনার কিছুদিন পরে অন্য রুমের দুই অনার্স পড়ুয়া বড় ভাই এই ধরনের ঘটনার মুখমুখি হন। ওইদিন রাতে আনুমানিক রাত ২.০০ বা ২.৩০ এর দিকে ঐ রুমের এক ভাইএর ঘুম ভেঙে যায় একটা বিশ্রী শব্দে। ঘুম ভাঙ্গার সাথে সাথে ডিম লাইটের আলোয় দেখতে পান তাদের খাটের ঠিক সামনে একটা ছোট মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঊনি অনেক কষ্টে তার ভয় দূর করে তার পাশে শোয়া অন্য ভাইকে জাগানোর জন্য পাশ ফেরেন। পাশের ভাইকে জাগিয়ে ঊনি পাশ ফিরে দেখাতে যাবেন মেয়েটাকে। কিন্তু বিস্ময়ের সীমা ছাড়িয়ে যায় যখন দেখেন ওখানে কেউ নেই!!
আগের ঘটনার পরে ভাইয়া ঐ হোস্টেলের দারোয়ানের কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনিও স্বীকার করেন ঐ হোস্টেলে কিছু আছে।দারোয়ানের ভাষ্য মতে
* তিনি এক রাতে হটাত উপর তলায় গুম গুম শব্দ শুনতে পান। তার এক ছোট ভাই তার সাথে ঘুমায়। সেও একই শব্দ শুনতে পায়। তার রুম টা উপরতলার বাথরুমের ঠিক নিচে। উনি ভাবল কেউ হয়ত বাথরুমে গেছে। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ শব্দ চলতে থাকায় উনি উপরে যান দেখতে।তার ছোট ভাইকে রুমেই রেখে যান। কারেন্ট না থাকাই একটা টর্চ হাতে নিয়ে যান। বাথরুমে ঢুকে তেমন কিছু দেখতে না পেয়ে উনি নিচে ফেরার জন্য যেই সিড়ি পর্যন্ত গেছেন অমনি শব্দ আবার হতে থাকে। টর্চ হাতে তিনি আবার বাথরুমে যান। হলের বাথরুম সাধারনত বড় হয় অর্থাৎ অনেক গুলো টয়লেট একসাথে।লাইট মেরে উনি দেখেন সব দরজা গুলো খুলছে আর বন্ধ হচ্ছে। ভয় পেয়ে উনি নিচে দৌড়ে চলে আসেন। নিজের রুমে ঢুকে দেখেন একটি ছোট মেয়ে তার ভাই এর সামনে দাড়িয়ে আছে। আর তার ভাই নির্বিকার ভাবে ঐ মেয়ের দিকে তাকিয়ে আছে। উনি সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
সকালে তার ও তার ভাইকে সবাই তাদের রুমে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে পায়। সবাইকে সবকিছু বললেও অনেকেই তার কথা বিশ্বাস করেনি। এটা ওই হলের অনেক আগের ঘটনা।
* আবার ভাইয়ার সাথে অন্য এক রাতে আরেকটি ঘটনা ঘটে ঐ বাথরুমে। ঐ রাতে আনুমানিক ৮.০০ বা ৯.০০ এর দিকে বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলা থাকায় সবাই নিচে যায় খেলা দেখতে। ভাইয়া টয়লেটে ঢুকে দরজাবন্ধ করে দেন। কিছুক্ষণ পরে উনি টের পান দরজার সিটকিনি খোলার খুটখুট শব্দ। বাথরুমের লাইটগুলো বেশিরভাগ ই ফিউজ। একটা লাইট দিয়ে কাজ চালাতে হয়।
ঐ লাইটের আবছা আলোতে তিনি দেখতে পান দরজার সিটকিনি অটোমেটিক খুলে যাচ্ছে। ভাইয়া উঠে দরজার শিটকিনী তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দেন। ভাইয়া ভাবেন হয়ত মনের ভুলে দেখেছেন ওটা। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে একই কান্ড আবার শুরু হয়। ভাইয়া আবার বন্ধ করে দেন। তৃতীয় বার তিনি তাড়তাড়ি কাজ সেরে টয়লেট হতে বের হয়ে যান। এই সব ভয়ানক ঘটনার পরে আর বেশিদিন ঐ হলে থাকেনি ভাইয়া।

স্কুলে ভূতের উপদ্রব!

 প্রকাশ্যে দিনের আলোয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নাকি জ্বালাচ্ছে ভূত! তাদের দাবি, স্কন্ধকাটা, মামদো, মেছো, ব্রহ্মদৈত্যের মতো হেভিওয়েট ভূতেরা নাকি স্কুল চত্বর জুড়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ভূতের ‘খপ্পড়ে পড়ে’ এখন পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জলপাইগুড়ি জেলার মালবাজারের নাগরাকাটা ব্লকের চ্যাংমারি হিন্দি হাইস্কুলের কমপক্ষে ১৫ জন ছাত্রী।

তবে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ভূতের কোনো ব্যাপার নেই। ভয় থেকেই এক ধরনের মানসিক রোগের সৃষ্টি হয়েছে পড়ুয়াদের মধ্যে। তাঁরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে বলেছেন।
এখন পর্যন্ত কেবল ছাত্রীরাই ‘ভূত-আতঙ্কের’ শিকার হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে অন্যদের মধ্যেও। ভয়ে নাকি ভর দুপুরেও স্কুলমুখো হচ্ছে না ছাত্র বা স্থানীয় বাসিন্দারা। স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে, দুই মাস আগে স্কুলটির কয়েক ছাত্রী হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন ছিল প্রচণ্ড গরম। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছে ভেবে তড়িঘড়ি করে কর্তৃপক্ষ স্কুলে গরমের ছুটি ঘোষণা করে দেয়। সেই ছুটির পর গত ১৫ জুন ফের স্কুল খুলে। এবারও কিছু ছাত্রী একইভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। দেখা গেছে, স্কুলের পঞ্চম এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীদের মধ্যে এই ‘ভূত-আতঙ্ক’ বেশি।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা ছাত্রীরা মাঝে মধ্যেই ‘ভূত ভূত’ বলে ছটফট করে উঠছে। তাদের শান্ত করতে ঘুমের ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে। ‘আতঙ্কে’ অনেকে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
‘ভূত-আতঙ্কে’ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে চ্যাংমারি হিন্দি হাইস্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী পূজা তিরকি ও অনামিকা মুন্ডা। তাদের ভাষায়, একদিন দুপুরে কেউ যেন সাদা শাড়ি পরে তাদের ডাকতে থাকে। না গেলে আচমকা মাথায় এসে চাটিও মারে। আবার ইয়া লম্বা মুলোর মতো সাদা দাঁত বের করে ভেংচি কেটেও চলে যায়। যা দেখে তারা আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
স্থানীয় নাগরাকাটা ব্লক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা শুভজিত বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীরা এক ধরনের মানসিক রোগের শিকার হয়েছে। মূলত ভয় থেকেই এমনটা হয়। তারা কোনোভাবে ভয় পাওয়াতে এই রকম করছে।
স্থানীয় চ্যাংমারি চা বাগানের চিকিৎসক উৎপলেন্দু মল্লিক বলেন, শিক্ষার্থীদের কারো মাথাব্যথা, কারও পেটব্যথা হচ্ছে। স্কুল থেকে অজ্ঞান অবস্থায় তাদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারপর জ্ঞান ফিরতেই তারা ভূতের কথা বলে রীতিমতো চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করছে।
‘ভূত-আতঙ্কের’ কারণে অনেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে ওঝা ডাকার পরামর্শও দিয়েছেন। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ আপাতত ওঝা নয়, শিক্ষার্থীদের এই সমস্যা মেটাতে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের সহযোগিতায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের বিরোধী দলের নেতা তৃণমূল কংগ্রেসের অমরনাথ ঝাঁ বলেন, দিনের পর দিন এ ধরনের ঘটনা ঘটতে থাকলে শিক্ষার্থীরা একসময় আর স্কুলেই যেতে চাইবে না। অবিলম্বে প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার জন্য দাবি জানান তিনি।
Source
https://www.ntvbd.com/world/13348/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%ad%e0%a7%82%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%ac

ব্যক্তিগত কিছু আধিভৌতিক ঘটনা- যার ব্যাখ্যা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই - ১

ব্যক্তিগত কিছু আধিভৌতিক ঘটনা- যার ব্যাখ্যা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট নই

ভৌতিক বা আধিভৌতিক ঘটনা - মানুষের জীবনে অন্যতম ইন্টারেস্টিং একটি অভিজ্ঞতা। এই ধরনের অভিজ্ঞতা মানুষ নিজে অর্জন করার চাইতে অন্যদের অর্জিত অভিজ্ঞতার কথা শুনতেই সাধারনত বেশি পছন্দ করে। উপযুক্ত পরিবেশে অন্যদের মুখে এই ধরনের ঘটনার বর্ননা নিঃসন্দেহে অন্যরকম অতি প্রাকৃতিক এক আবহাওয়া তৈরী করে। তাই ভূতের গল্প যুগ যুগ ধরে নন্দিত একটি ব্যাপার।
ব্যক্তিগত ভাবে আমি এই সব ভূতপ্রেতের গল্প বিশ্বাস করি না এবং একজন শিক্ষিত মানুষ হিসেবে তা বিশ্বাস করার কোন সঠিক যুক্তিও নেই। তবে অনেক সময় পরিস্থিতির কারনে কিছু কিছু ঘটনা মনে গভীর দাগ সৃষ্টি করতে পারে। দূভার্গ্য হোক আর সৌভাগ্য হোক এমন কিছু বিরল অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে আমি ব্যক্তিগত ভাবে গিয়েছি এবং অন্যদের মুখ থেকে কিছু অভিজ্ঞতার কথাও শুনেছি। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমি ঐ ঘটনাগুলোর একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছি আবার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সঠিক ব্যাখ্যার অভাবে বেশ অস্বস্তি বোধ করেছি।
ভূতের গল্প পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া খুবই দূর্লভ একটি ব্যাপার। কাউকে যদি আপনি ভূতের গল্প শুনাতে চান, হোক সে শিশু কিংবা বৃদ্ধ, সবার কাছেই আপনি বেশ অভূতপূর্ব সাড়া পাবেন। এর সাথে বিশ্বাস অবিশ্বাসের কোন ব্যাপার নেই। এই পুরানো সূত্র মাথায় রেখেই আপনাদের সাথে ঘটনা গুলো শেয়ার করছি এবং পাশাপাশি আমার ব্যাখ্যাও দেয়ার চেষ্টা করেছি। যেগুলোর উপযুক্ত ব্যাখ্যা পাইনি তাও উল্লেখ্য করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে যেমন বিশ্বাস করি, উপযুক্ত জ্ঞানের অভাবে কিছু ঘটনার সঠিক ব্যাখ্যা আমি দাঁড় করাতে পারি নি, তেমনি এটাও স্বীকার করি এই রহস্যময় পৃথিবীর রহস্যের ঠিক কতটুকুই বা আমরা জানি।

আমার এক দূর সম্পর্কের নানা ছিলেন যাকে আমরা ফকির নানা বলে ডাকতাম। তিনি ছিলেন যথেষ্ট বিদ্যান, অল্পভাষী এবং ধর্মজ্ঞান সম্পন্ন একজন সুফী মানুষ। আমরা শুনেছি যে তিনি সারারাত ধরে মসজিদের পাশের একটি ঘরে ইবাদত বন্দেগী করতেন। সেই সময় ঐ ঘরের আসেপাশে কারো যাওয়াটা তিনি পছন্দ করতেন না। কথিত ছিল, তার সাথে নাকি জীন আছে। আমাদের মা খালাদের এই বিশ্বাস আরো তীব্র হতো যখন তাঁর বাড়িতে বেড়াতে গেলে নানী আমাদেরকে মাঝে মাঝে কিছু চমৎকার ফল খেতে দিতেন যা বাজারে কখনও দেখতাম না। দীর্ঘদিন পরে এসে জানলাম, সেই ফলের নাম ছিল ড্রাগন ফল।
২০০২ সালে রোজার ঈদের পরদিন তিনি মারা যান। আমরা তখন ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতেই ছিলাম। সবাই মিলে তাড়াতাড়ি তার বাড়িতে গেলাম। তখন বাজে প্রায় রাতের দুইটা। ইতিমধ্যেই লাশকে গোসল দেয়া হয়েছে, কাফনের কাপড় পড়িয়ে বাড়ীর কাচারী ঘরে (গ্রাম দেশের বাড়ির সামনের বৈঠক ঘর) রাখা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বাদ ফজর তাকে দাফন করা হবে। স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জেম সাহেবের সাথে কয়েকজন লাশের পাশে বসে গুন গুন করে কোরান শরীফ পড়ছেন।
কাচারী ঘরের বারান্দায় চেয়ার দেয়া হয়েছে। আমরা কয়েকজন সেখানে বসে আছি। অক্টোবরের শেষ দিক হওয়াতে বাতাসে হালকা শীতের আভাস। বাতাসে আগরবাতি এবং কর্পূর মিশ্রিত এক অদ্ভুত রহস্যময় গন্ধ।
হঠাৎ টিনের চালে ধুম করে কিছু একটা পড়ার শব্দে কিছুটা চমকে উঠলাম। গ্রাম দেশে টিনের চালে মাঝে মাঝে ডালপালা বা ফল জাতীয় কিছু ছিঁড়ে পড়লে এমন শব্দ হতেই পারে। প্রাথমিকভাবে আমাদেরও তাই ধারনা হয়েছিল। ফলে বিষয়টা নিয়ে দ্বিতীয় কোন চিন্তা মাথায় আসে নি। এর বেশ কিছুক্ষন পরে আবারও জোরে ধুম করে কিছু একটা পড়ার শব্দ হলো। এবার মনে হলো পানি ভর্তি একটা ড্রাম টিনের ছাদে গড়িয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে। আমরা লাফ দিয়ে উঠানে এসে কাচারী ঘরের ছাদের দিকে তাকালাম। আমি মনে মনে একটা ডাব গাছ আশা করেছিলাম। কিন্তু ডাব জাতীয় কোন গাছই দেখতে পেলাম না। একটা ছোট লিচু গাছ আর কয়েকটি মাঝারি সাইজের আমগাছ কাচারী ঘরকে ঘিরে রেখেছে।
কিছুক্ষন খোঁজাখুঁজি করে যখন শব্দের উৎস সম্পর্কে জানা গেলো না, তখন পরিবেশটা কেমন যেন গুমোট হয়ে গেলো। এই যখন পরিস্থিতি তখন বাড়ির ভেতর থেকে খবর আসলো যে, নানা নাকি জীবিত কালে নানীকে বলে গিয়েছেন তার মৃত্যূর পর জানাযা দেয়ার আগে তাকে যেন কাচারী ঘরে কিছুক্ষনের জন্য একা রেখে আসা হয়।
মানুষের ভয় পাবার কিছু স্বভাবজাত ট্রিগার রয়েছে। ফলে আপনি যতই বিজ্ঞানমনস্ক হোন না কেন উপযুক্ত পরিবেশে যদি কোন কারনে সেই ট্রিগারে চাপ পড়ে তাহলে আপনি ভয় পেতে বাধ্য। বলাবাহুল্য আমিও এই তত্বের ব্যতিক্রম নই। কেন যেন আমার শিরদাঁড়া বেয়ে ভয়ের একটা শীতল স্রোত বয়ে গেলো। গ্রামের মানুষজন এই ধরনের পরিস্থিতির সাথে বোধকরি বেশ পরিচিত। তাই তাদের মধ্যে সামান্য কিছু উত্তেজনা ব্যতিত আর কিছুই দেখলাম না।
সবাই মুরুব্বীদের পরামর্শ অনুযায়ী লাশটাকে কাচারী ঘরে রেখে এসে দরজা ভিড়িয়ে দিয়ে দূরে এসে দাঁড়াল। আমার জন্য বেশ নতুন একটা অভিজ্ঞতা। ভয়, অবিশ্বাস আর উত্তেজনার সংমিশ্রনে একটা অদ্ভুত অনুভূতি হচ্ছিল যা ঠিক লিখে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। আমি এদিকে সেদিকে তাকাচ্ছিলাম। কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। গভীর রাত, দুর থেকে ভেসে আসা কান্নার শব্দ, অন্ধকার, গুনগুন করে মানুষের ধর্মীয় মন্ত্রপাঠের শব্দ এবং থেমে থেমে কুকুরের বিক্ষিপ্ত ডাক একটা অদ্ভুত পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল।
এইভাবে বেশ অনেকক্ষন কেটে গেলো। ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি প্রায় রাতের ৩টা বাজে। আমি কাচারী ঘরের বারান্দা বাদ দিয়ে সামনে উঠোনের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছি। মোয়াজ্জেম সাহেব কাচারী ঘরে ফকির নানার লাশ রেখে বাইরে বের হয়ে আসলেন।
এবার শুরু হলো অপেক্ষা। এই এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা। আপনার শিক্ষা, আপনার ধর্ম জ্ঞান, আপনার বিশ্বাসের সাথে এক অসম লড়াই। হঠাৎ মনে হলো কাচারী ঘরের সাথের আমগাছটা বেশ অদ্ভুতভাবে নড়চড়া করছে। মনে হচ্ছে গাছের উপর দিয়ে বেশ জোরে বাতাস বয়ে যাচ্ছে। আমার ছোট মামা আমার পাশে এসে দাঁড়ালেন। ফিসফিস করে বললেন, চলে আসছে। কিন্তু আমি গাছের পাতার নড়াচাড়া ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। দুই মিনিটের মধ্যে তাও থেমে গেলো। চারিদিক গ্রাস করল একটা শুনশান নীরবতায়। আমার মনে হচ্ছিল, কারা যেন ফিসফিস করে কথা বলছে। পরিস্থিতির সাপেক্ষে বেশ অতি প্রাকৃত ব্যাপারই বটে।
হঠাৎ 'ক্যাচ' করে দরজা খোলার মত একটা শব্দ পেলাম। আমি কাচারী ঘরের দিকে তাকিয়ে আছি। আমার মনে হলো দরজাটা অল্প একটু ফাঁক হয়ে আবার বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আমাদের মাথার উপরেই হঠাৎএকটা সুখ পাখি ডেকে উঠল। তারপর আবারও সব চুপচাপ। আরো ১০/১৫ মিনিট অপেক্ষা করার পর সবাই একসাথে দোয়া পড়তে পড়তে কাচারী ঘরে প্রবেশ করল। বুঝলাম জীন দেখা পর্ব এখানেই শেষ। আগেই বলেছিলাম গ্রামের মানুষজন বুঝি এমন ঘটনার সাথে খুব পরিচিত। এখনও দেখলাম সবাই বেশ স্বাভাবিক আচরন করছে। পাশের বাড়ি থেকে ইতিমধ্যে চা চলে এসেছে। সবাই আয়েশ করে চা খেতে খেতে গল্প করছে।
মাঝে মাঝে আমার কাছে বিয়ে বাড়ি আর মরা বাড়ীকে একই রকম লাগে। বিয়ে বাড়িতে সবাই ছোট ছোট দল হয়ে গল্প গুজব করে মরা বাড়িতেও তাই। মাঝে মাঝে হাসি ঠাট্টা, মাঝে মাঝে আল্লাহ! বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলে কিছুক্ষন থমকে যাওয়া তারপর আবারও হাসিঠাট্টা। এইভাবেই আসলে আমাদের জীবন চলে।
যাইহোক এরপরের ঘটনা সামান্য। আমরা ফজরের নামাজ পড়তে বাড়ির মসজিদে যাই। আমরা পোলাপাইনরা পিছনের সারিতে দাড়াই। নামাজের মধ্যেই হঠাৎ টের পাই আমার পিছনের সারিতে আরো কয়েকজন নামাজ পড়ছে। হাস্নাহেনা ফুলের চমৎকার একটা গন্ধ আমি পাচ্ছিলাম। কিন্তু সালাম ফেরানোর পর পিছনে তাকিয়ে আমি কাউকে দেখতে পাই নি। আমরা লাশ নিয়ে দাফন করার জন্য নানাদের পারিবারিক কবরস্থানের দিকে রওনা করলাম। বাড়ি থেকে বের হয়ে ডান দিকে সোজা একটা পথ ধরে প্রায় ১০০ গজ এগিয়ে গেলে পুকুর পাড়ে করবস্থান। লাশ দাফন করার পর যখন দোয়া হচ্ছিল, তখন উপস্থিত কয়েকজন মুরুব্বীর বিস্ময়মিশ্রিত চোখ অনুসরন করে দেখলাম কবরস্থানের দেয়ালের পাশেই তিনজন মানুষ দোয়ায় শামিল হয়েছেন। তখনও ভোরের আলো ঠিকভাবে ফুটে নি। পরিষ্কারভাবে তাদের চেহারা দেখা যাচ্ছিলো না তবে এই তিনজন মানুষকে আমার কেন যেন স্বাভাবিক লাগছিল না, যদিও আমি তাদের চেহারা পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছিলাম না, তথাপি তাদের শারিরীক গঠন আমার কাছে কিছুটা অস্বাভাবিক লাগছিল। কেমন অস্বাভাবিক, আমি তা ঠিক বুঝিয়ে বলতে পারব না। হঠাৎ কেমন যেন একটা শিরশির অনুভুতি হচ্ছিলো। মনে হলো, কে যেন আমার দিকে চেয়ে আছে। আমি পিছনে তাদের দেখার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু পাশের এক মুরুব্বী আমাকে ইশারায় তাকাতে মানা করলেন। মুনাজাতের সময় মাওলানা সাহেব বললেন, হে আল্লাহ! আমরা তোমার দুই অনন্য সৃষ্টি এখানে উপস্থিত আছি। তুমি আমাদের দোয়া কবুল করো।
মুনাজাত শেষ করে আমরা বাড়ির পথ ধরলাম। কবরস্থান থেকে একটাই মাত্র রাস্তা প্রধান সড়কে উঠেছে। পুরো রাস্তা ফাঁকা। কোথাও কেউ নেই। দূরে ফসলের মাঠে হালকা কুয়াশাগুলো এমন ভাবে সরে যাচ্ছিলো মনে হচ্ছিল তিনটা মানুষ বুঝি ভেসে ভেসে যাচ্ছে।
ব্যাখ্যাঃ
ঘরের চালে ধুম করে শব্দের ব্যাখ্যা হতে পারে, হয়ত কোন বড় পাখি কোন শুকনা ডালে হঠাৎ এসে বসায় ভার নিতে না পারায় তা ভেঙে চালে পড়েছে। আমি যখন পরে বিষয়টা নিয়ে ভাবলাম, তখন মনে হলো মাঝারি সাইজের একটা আম গাছে কি এমন শুকনা ডাল থাকতে পারে? উত্তর - হ্যাঁ থাকলেও থাকতে পারে।
এমন বড় কোন পাখি হতে পারে?
- আমি জানি না! হয়ত বড় কোন পেঁচা বা নাম না জানা অন্য কোন পাখি।
এত শব্দ কেন হলো?
- আমার মতে শব্দটা স্বাভাবিকই হয়েছিল, যতটুকু হবার কথা ততটুকুই হয়েছিল। তবে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে হয়ত তা হ্যালুসিনেট করে বেশি শুনিয়েছে।
ক্যাচ ক্যাচ শব্দে দরজার খোলার শব্দ?
- গ্রামের যৌথ পরিবারের বাড়ি। হয়ত লাগোয়া কোন বাড়ির দরজা মা খালারা সন্তর্পণে খোলার চেষ্টা করেছিলেন। সেই শব্দ আমার কানে আসার পর মনে হয়েছে তা কাচারি ঘর থেকেই আসছে।
নামাজের সময় পেছনের কারো উপস্থিতি?
গ্রামের মসজিদগুলো খুব একটা বড় হয় না। অনেক সময় চারিদিক যখন নিরব থাকে, সেই সময় এক সাথে সবাই মিলে রুকু বা সিজদায় যাবার শব্দ হয়ত মসজিদের দেয়ালে বাড়ি খেয়ে পেছনে থেকে এপ্লিফাই হতে পারে, যাতে মনে হয় পেছনে কেউ আছে।
ফুলের গন্ধ?
এটা খুবই স্বাভাবিক একটা ঘটনা। গ্রামে জানালা খোলা থাকলে স্বাভাবিক সময়েও ফুলের গন্ধ আসতে পারে। ফুলের গন্ধে অস্বাভাবিকতা খোঁজার বিষয়টি আমার নিজের কাছে কিছুটা হাস্যকরই লেগেছে।
তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি?
- আমি জানি না! হতে পারে দুরের কোন পথচারী। লাশ দাফন করতে নিয়ে যাচ্ছে দেখে তারাও শেষ মুহুর্তে অংশ নিলেন। নিজেদের মত দ্রুত দোয়া করে আগেই চলে গেলেন।
আপনি কি এই সকল ব্যাখ্যা ১০০ভাগ বিশ্বাস করেন?
না, দুঃখিত। শতভাগ ব্যাখ্যা বিশ্বাস করে আমার দুর্লভ কিছু অতিপ্রাকৃতিক অভিজ্ঞতার ঝুলি নষ্ট করতে চাই না।

৭টি ঐতিহাসিক অভিশপ্ত জিনিষ ।। 7 Cursed Historical Objects

 ৭টি ঐতিহাসিক অভিশপ্ত জিনিষ ।। 7 Cursed Historical Objects

একটু খোঁজ নিলেই দেখা যাবে যে এমন অনেক জায়গা আছে যা ভূত-প্রেত দ্বারা পরিবেষ্ট, কিন্তু তার থেকেও অদ্ভুত কিছু জিনিষ আছে যে গুলিকে শুধু মাত্র চিন্তার ভুল ভেবে অভিশপ্ত জিনিষ কল্পনা না করে বরং সত্যিকার অর্থেই এগুলিকে অভিশপ্ত বলে ধারনা করা হয়; অন্তত্য কিছু ঘটনা তাই প্রমান করে। এবার আপনাদের জন্য এরকম প্রমানিত কিছু অবিশপ্ত জিনিষ।
০১) অভিশপ্ত আংটিঃ
অভিশপ্ত এই আংটিকে সকলেই চিনে 'Rudolph Valentino's Ring' নামে। যখন শব্দহীন সিনেমা চালু হল তৎকালীন সময়ে 'Rudolph Valentino' নামে এক ব্যাক্তি বাঘের চোখের সদৃশ্য পাথরের এই আংটি-টি কিনে তার এক কাছের বন্ধুকে দেখালেন। সে দিনই তার বন্ধু স্বপ্নে দেখতে পান যে Rudolph Valentino বিবর্ণ হতে মৃত্যুবরণ করছেন। সত্যিকার অর্থেই তিনি মারা যান; আর তার মৃত্যুর পরে তার এই আংটি-টি দেওয়া হয় তার প্রেমিকা 'Pola Negri' কে। Pola Negri-ও এই আংটি-টি পড়ার কিছু দিন পরে মারা যান। পরবর্তীতে Rudolph Valentino এর জীবনি নিয়ে বানানো সিনেমা-তে যে অভিনেতা Rudolph Valentino এর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন, তিনি অভিনয়ের কারনে এই আংটি-টি পড়েন এবং পরবর্তীতেও তিনি মারা যান।
০২) অভিশপ্ত চেয়ারঃ
অভিশপ্ত এই চেয়ারকে সকলেই চিনে 'George Meade Easby's Chair of Death' নামে। এই চেয়ারের মালিক 'Easby' ২০০৫ সালে মৃত্যুবরণ করার আগে তিনি বার বার বলতেন যে তিনি ভুত দেখতে পান; কিন্তু তার এই কথার সাথে যে এই চেয়ারের কোন সম্পর্ক আছে তা হয়ত তখন কেউ চিন্তাও করতে পারেন নাই। Easby এর মতে যে এই চেয়ারের উপর যে বসবে তাকে নীল রঙের কুয়াশা ঘিরে ধরবে এবং হঠাৎ করেই সে মারা যাবে। মোট চারজন Easby-কে ভুল প্রমানিত করার জন্য এই চেয়ারে বসেছিল এবং চার জন-ই মারা যায়।
০৩) অভিশপ্ত সিন্দুকঃ
১৮০০ শতকের মধ্য সময়ে 'Jacob Cooley' নামের এক ব্যাক্তি তার অনাগত সন্তানের জন্য কাঠ দিয়ে এই সিন্দুকটি বানান তার এক দাসকে দিয়ে। কিন্তু দাসের তৈরি এই সিন্দুকটি তার পছন্দ না হবার কারনে তিনি দাসকে হত্যা করেন। অনেকের ধারনা তখন অন্যান্য দাসেরা এই সিন্দুকটিকে অভিশাপ দেয়। Jacob Cooley এর সন্তান জন্ম নেবার কিছুদিন পরেই মারা যায়; এছাড়াও এই সিন্দুকের সাথে জড়িয়ে আছে আরো ১৭টি রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা।
০৪) অভিশপ্ত ছড়িঃ
এই ছড়ি-টি eBay থেকে $৬৫,০০০ মার্কিন ডলারে কিনে নাম মাত্র দামে এটি বিক্রি করে দেন এর মালিক। কারন, এই ছড়িটির যিনি মালিক তার ধারনা এটি ভৌতিক ছড়ি। এটি ব্যাবহার করতেন তার বাবা, আর এর মালিকের ছেলে দাবি করে যে, সে এই ছড়ি হাতে তারা নানার আত্মাকে দেখেছে।
০৫) অভিশপ্ত খাটঃ
অভিশপ্ত এই খাটকে সকলেই চিনে 'The Tallman House Bunk Bed' নামে। 'Alan Tallman' এবং 'Debby Tallman' তাদের সন্তানদের জন্য এই দোতলা খাটটি কিনেন, কিন্তু এই খাটটি কেনার পর থেকেই অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটতে থাকে তাদের সাথে। তাদের বাচ্চারা প্রায় সময় অসুস্থ থাকত এবং প্রায় সময়-ই তারা ডাইনিদের স্বপ্নে দেখত। এই রুমের রেডিও নিজ থেকেই বেতার ষ্টেশন পরিবর্তন করত। Alan Tallman একদিন বাইরে থেকে ঘরে ফিরে গ্যারেজে কথার শব্দ শুনতে পেল, গ্যারেজে যেয়েই দেখতে পেল আগুন, কিন্তু যখন-ই সে আগুন নির্বাপক যন্ত্র নিয়ে গ্যারেজে ঢুকল দেখল সেখানে আগুনের ছিটেফোঁটাও নেই। এরপরে তারা খাট-টিকে পুড়িয়ে ফেলে আর এরপরেও অদ্ভুত সব ঘটনা ঘটাও বন্ধো হয়ে যায়।
০৬) অভিশপ্ত খুলিঃ
অভিশপ্ত এই খুলি সকলের কাছে পরিচিত 'The Screaming Skull of Burton Agnes Hall' নামে। Burton Agnes Hall বানানো হয় 'Sir Henry' এর জন্য, আর এটি ছিল 'Queen Elizabeth I' এর তরফ থেকে পুরুস্কার স্বরূপ। Sir Henry এর বোন যখন মারা যায় তখন সে তার ভাইকে অনুরোধ করে যে তার মাথা কেটে যেন এই Burton Agnes Hall এর মধ্যেই রাখা হয়। Sir Henry এর বোন মারা গেলে তার দেহ সৎকার ঠিকঠাক মতই করা হয় এবং তা করা হয় তার মাথা সহ। এরপর থেকে ঘটতে থাকে অদ্ভুত সব ঘটনা; দেয়াল থেকে ছবি পরে যাওয়া, জিনিষপত্র পরে যাওয়া, হলের মধ্যে বিশাল জোড়ে চিতাকার। অনেকের ধারনা Sir Henry যেহেতু তার বোনের দাবী পূরন করেন নাই তাই তার বোনের আত্মা এখনও শান্তি পায় নাই আর একারনেই ঘটছে এসকল ভৌতিক ঘটনা।

অভিশপ্ত দ্বীপের গল্প

 অভিশপ্ত দ্বীপের গল্প

অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি দ্বীপ গাইওলা। ইতালির নেপলস নামক এলাকায় অবস্থিত এই দ্বীপটি। এটি দেখলেই আপনার ভালো লেগে যাবে। মনে হবে অবকাশ যাপনের জন্য কিংবা কর্মক্ষেত্র থেকে অবসর নেয়ার পর বাকি জীবন শান্তিতে কাটিয়ে দেয়ার জন্য দারুণ একটা জায়গা এটি।
তবে এই দ্বীপের কাহিনী শুনলে পাল্টে যাবে আপনার ধারণা। আজ পর্যন্ত এই দ্বীপটি কিনে কেউ বেঁচে থাকতে পারেননি। কোনো না কোনোভাবেই খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মারা গেছেন অথবা আর্থিকভাবে দেউলিয়া হয়ে সর্বহারা হয়েছেন তারা।
এই দ্বীপের স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারবেন আরো অনেক কিছুই। স্থানীয় অধিবাসীদের ভাষায় ভয়াবহভাবে অভিশপ্ত এই দ্বীপ। তারা জানান, এখন পর্যন্ত যতজন এ দ্বীপের মালিকানা লাভ করেছেন ততজনই মারা গিয়েছেন আকস্মিক ও অপঘাতে অথবা হয়েছেন আর্থিকভাবে দেউলিয়া।
১৯২০ সালে মারা যান এই দ্বীপের প্রথম মালিক। তখন থেকেই শুর হয় ঘটনা। দ্বীপের মালিক সুইজারল্যান্ডের একজন নাগরিক ছিলেন। যার নাম হ্যানস ব্রাউন। তিনি কয়েক বছর এই দ্বীপে বাস করেন। তারপর একদিন হ্যানসকে পাওয়া গেল মৃত অবস্থায়। তখন তার দেহ ছিল কার্পেট দিয়ে মোড়ানো। এর কয়েক মাস পরেই হ্যানসের স্ত্রীও সাগরের পানিতে ডুবে মারা যান। এভাবে দ্বীপটি অভিশপ্ত হয়ে ওঠে।
একের পর এক মারা যেতে থাকেন নতুন মালিকরা। প্রথম মালিকের মৃত্যুর পরে দ্বীপের পরবর্তী মালিকানা লাভ করেন একজন জার্মান ব্যক্তি, যার নাম অটো গ্রানব্যাক। তিনি নিজের ভিলাতেই আকস্মিকভাবে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান।
তবে ঘটনা এখানেই থেমে থাকেনি। এর পর মালিকানা গ্রহণ করেন মরিস ভেজ স্যান্ডোজ। যিনি একটি মানসিক হাসপাতালে আত্মহত্যা করেন।
এর পরে দ্বীপের মালিক হন জার্মানির ইস্পাত শিল্প মালিক ব্যারন কার্ল পল ল্যাঙ্গহেইম। তিনি তার বেহিসেবী আচরণের কারণে খুব শিগগরিই দেউলিয়া হয়ে যান, ধনকুবের থেকে পরিণত হন পথের ফকিরে। পরবর্তী মালিক জীয়ানই আগনেলির বহু আত্মীয় অস্বাভাবিকভাবে মারা যান।
এর পরের মালিক পল গ্যাটিকের নিজের নাতিকে অপহরণ করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা, যার খোঁজ আর পাওয়া যায়নি। দ্বীপটির সর্বশেষ মালিক জীয়ান প্যাসকেল গ্র্যাপোনকে পুলিশ আটক করেন।
এসব বহু ঘটানার জন্ম দেয়া এ দ্বীপের অভিশাপের কথা আলোচনায় আসে ২০০৯ সালে। ফ্র্যাঙ্কো এম্ব্রোসিও ও তার স্ত্রী জিওভান্নো সাচো খুন হন। এরা এ অভিশপ্ত দ্বীপের বিপরীতে একটি ভিলা বসবাসের জন্য ভাড়া নিয়েছিলেন।

রিকশাওয়ালা ভাই

আমি এখন যে ঘটনাটা শেয়ার করছি সেটা ঘটেছিল আজ থেকে প্রায় ৩/৪ বছর আগে। এটা এমন দুই বন্ধুর ঘটনা যারা প্রায় রাতেই সিনেমা হলে যেতো সিনেমা দেখতে। এবং হলের শো শেষ করে বাড়ি ফিরতে তাদের প্রায় বেশ রাত হয়ে যেত। এক কথায় তারা দুজনেই ছিল সিনেমা ভক্ত। অর্থাৎ রাতে সিনেমা দেখাটা তাদের ছিল একটা নেশা। তারা দুজনেই একই গ্রামে বাস করত এবং তাদের দুজনের বাড়িই ছিল পাশাপাশি। তাদের গ্রামটি ছিল খুবই নিরিবিলি এবং সিনেমা হল ছিল তাদের বাড়ি থেকে প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে। সেদিন ছিল বুধবার। তারা হলের শো শেষ করে বাইরে বের হয়ে দেখতে পেল যে বাইরে একটু আগেই এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে। প্রতিদিন তারা হল থেকে বেড়িয়ে রিক্সায় করেই বাড়ি ফিরে। কিন্তু সেদিন প্রচণ্ড বৃষ্টির কারনে হলের বাইরে কোন রিক্সা বা কোন যানবাহন ছিল না। তাই তারা পায়ে হেটেই বাড়ি ফিরার সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের বাড়ি ফেরার রাস্তা ছিল মেইন রাস্তা থেকে একটু ভেতরে। দু একটা রিক্সা আর সাইকেল ছাড়া অন্য কোন যানবাহন সেই রাস্তায় যাতায়াত করতে পারেনা। রাস্তার দুপাশে ঘন জঙ্গল আর একটা মস্ত বড় বাঁশঝাড়। রাত তখন প্রায় শোয়া এগারোটা কি সাড়ে এগারোটার মতন হবে। তারা দুজনে তাদের বাড়ি যাওয়ার সেই রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছে।

কিছুদূর যেতেই তারা তাদের সামনে একটি রিক্সা দেখতে পেল। তারা রিক্সার কাছে গেল এবং রিকশাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করল, ভাই যাবেন? রিকশাওয়ালা কোন উত্তর দিল না। কোথায় যাবেন তাও জিজ্ঞেস করল না। শুধু তার ঘাড় নাড়িয়ে ইশারায় হ্যাঁ বোধক সম্মতি জানাল। এরপর তারা দুজনে রিক্সায় উঠে। রিক্সা চলতে শুরু করল। কিছুদূর সামনে এগুতেই তাদের মধ্যে একজন রিক্সাওয়ালাকে জিজ্ঞেস করল, ভাই এত রাতে এই বৃষ্টির মধ্যে রিক্সা চালাতে আপনার ভয় করে না? কিন্তু রিকশাওয়ালার মুখ থেকে এবারও কোন উত্তর বেরুলো না। এবার তারা দুজনেই একটু অবাক হয়ে গেল। তাদের মধ্যে একজন সেই রিকশাওয়ালার পায়ের দিকে তাকাল, এবং সে হাত দিয়ে ইশারা করে তার পাশের জনকে তাকাতে বলল।

তারা দুজনে তাকিয়ে যা দেখল তাতে তাদের দুজনেরই শরীর শিউরে উঠে।

তারা দেখল রিকশাওয়ালার পা দুটো কোন স্বাভাবিক মানুষের পায়ের মত নয়। বরং তার পা দুটো ছিল অনেকটা ঘোড়ার পায়ের মতন। এবং তার পা দুটি ছিল রিক্সার প্যাডেল থেকে অনেকটা উপরে। অর্থাৎ সে প্যাডেলের সাথে পা স্পর্শ না করেই রিক্সা চালাচ্ছে। তারা কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ রিকশাওয়ালা পেছন ঘুরে তাদের দুজনের দিকে তাকাল। এবার তারা দেখল, রিকশাওয়ালার সেই ভয়াবহ চেহারা খানা। তার চোখ দুটো ছিল এমন যে, কোন মানুষ মারা যাবার পর তার চোখ কোন কিছুতে খেয়ে ফেললে ভেতরে যেমনটা অন্ধকার থাকে। ঠিক তেমন। এবং তার মুখের উপরের মাংস গুলো অনেকটা খুলে খুলে পরছে এবং তা থেকে রক্ত বেয়ে বেয়ে পরছে। তাদের দুই বন্ধুর মধ্যে একজন ছিল একটু ভীরু টাইপের। এই পরিস্থিতি দেখা মাত্রই সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এবং আরেক বন্ধু চিৎকার করে সেখান থেকে দৌড়ে চলে যায়। অবশেষে সে একটা বাড়ির সামনে গিয়ে পরে। এরপর বাড়ির লোকজন বাইরে বেড়িয়ে আসে এবং সবকিছু শুনে আরও লোকজন ও লাঠিসোঁটা নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে তার সেই বন্ধু অজ্ঞান অবস্থায় মাটিতে পরে আছে। কিন্তু সেখানে সেই রিক্সা আর রিকশাওয়ালা রুপি সেই বীভৎস চেহারার লোকটির কোন চিহ্নও সেখানে পাওয়া গেল না। এরপর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাকে ট্রিটমেন্ট করা হয় এবং আস্তে আস্তে সে সুস্থ হয়ে উঠে। এরপর তারা আর কোনোদিনও রাতে সিনেমা হলে সিনেমা দেখতে যায়নি।

ভূতুড়ে কাহিনী ৮২: স্বপন ডাক্তার

 শহরের অদূরেই বেশ পুরনো একটি ডিসপেনসারি। বাইরে থেকে এর নাম বা ডাক্তারের পরিচিতি কিছুই বোঝা যায়না। খুব কাছ থেকে শুধু ডিসপেনসারি শব্দটিকেই অস্পষ্ট বোঝা যায়। সবাই অবশ্য এটিকে ডাক্তারখানা বলে।

প্রায় তিন দশক ধরে এই স্থানেই স্বপন ডাক্তার এই এলাকার হাজারো মানুষের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। কোথায় থেকে তিনি ডাক্তারি পাশ করেছেন কিংবা ডাক্তারি প্র্যাকটিস করেছেন তা কারোই জানা নেই। শহরে পাশ করা ডাক্তারের অভাব নেই। তবুও সকলের একই কথা, “স্বপন ডাক্তারের হাত ভাল, রোগী ভাল হয় তাড়াতাড়ি”.... এলাকায় তার নামে নানা অদ্ভুত আর অবিশ্বাস্য সব মুখরোচক ঘটনা প্রচলিত আছে। স্বপন ডাক্তারকে এই ব্যপারে কেউ জিজ্ঞেস করলে সে তা এড়িয়ে যায়। তবে মাঝে মাঝে সে কিছু নতুন কথা জুড়ে দেয়।
স্বপন ডাক্তারের বহু পুরনো রোগী আছে। সে তার পুরনো রোগীদের আলাদাভাবে দেখভাল করে। নতুন রোগীদের সে ডাক্তারখানায় বসে চিকিৎসা দিলেও পুরনোদের প্রয়োজনে রাত বিরাতে তাদের বাসায় যেয়ে উপস্থিত হয়।
পৌষ মাসের এক ঠাণ্ডা রাতে স্বপন ডাক্তারের সাথে অদ্ভুত এক ঘটনা ঘটে গেল। সেদিন মাঝারী ধরনের বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। শীতকালে সাধারণত এমন দিন খুব কমই পাওয়া যায়। ঠাণ্ডা সহ্য করতে না পেড়ে স্বপন ডাক্তার সন্ধ্যে না নামতেই ডিসপেনসারি বন্ধ করে দিল। তাদের বুড়ো আর বুড়ির ছোট্ট সংসার। ছেলেপুলের মুখ তারা দেখেনি। এই বৃদ্ধ বয়সেও এ জন্য বুড়িকে সে মাঝে মধ্যে বকা ঝকা করে। কিন্তু বুড়িকে ভুলে গিয়ে অন্য কারো সাথে সংসার পাতার ইচ্ছেও সে করেনি।
সেদিন ডিসপেনসারি বন্ধ করে ঘরে এসেই বুড়িকে চায়ের অর্ডার দিয়ে লেপের তলায় যেয়ে চুপচাপ শুয়ে পড়ল সে। শীতে তার হাত পা কাঁপছিল। পা দুটো গরম করতে হাত দিয়ে ডলতে থাকল। চায়ের আশায় বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরেও যখন চা নিয়ে কেউ আসলনা, তখন তার মেজাজ বিগরে গেল। দেরী করার জন্য বুড়িকে গাল মন্দ করতে থাকল। কিন্তু অন্য দিনের মত আজ আর বুড়ি তার কথায় উত্তর দিচ্ছিলনা। এতে মেজাজ আরও বিগড়ে গেল। রাগের মাথায় ঠাণ্ডা উপেক্ষা করেই রান্না ঘরের দিকে হাঁটা দিল। সেখানে যেয়ে দেখল তার স্ত্রী সেখানে নেই। চুলোয় পানি গরম হচ্ছে ঠিকই। পাশেই তার চশমাটা রাখা। স্বপন ডাক্তার স্ত্রীর নাম ধরে ডাকতে লাগল। আশে পাশে কোন সাড়া শব্দ পাওয়া গেলনা। স্বপন ডাক্তার ভাবল তাঁকে না বলেই বাইরে কারো উপকার করতে চলে গেছে। তাই সে রাগে গজরাতে গজরাতে নিজের খাটের পাশে গিয়ে বসল। সাথে সাথেই বাইরে থেকে অদ্ভুত এক কণ্ঠে কেউ তাকে ডেকে উঠল। ডাক শুনে স্বপন ডাক্তারের সারা শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেল। মাঝ রাতেও তাকে অনেকে ডেকে নিয়ে যায়। কিন্তু আজ এই সন্ধ্যে বেলাতেই এক ডাকে তাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছে। স্বপন ডাক্তার উত্তরে বলল, “বাইরে কে ডাকে রে?”
বেশ কিছুক্ষণ কোন সাড়াশব্দ মিলল না। তারপর খুব রুগ্ন কণ্ঠে কারো ডাক শুনল। সে কান পেতে শুনল। কেউ তাকে বলছে, “ডাক্তারবাবু বাসায়? এখুনি একটু হাওলাদার বাড়ী চলেন না”।
হাওলাদার বাড়ির নাম শুনে স্বপন ডাক্তারের চোখ জ্বল জ্বল করে উঠল। হাওলাদার মশায় অনেক দিন ধরেই অসুস্থ। তার কাছে রাত বিরাতে গেলে একটু কষ্ট হয় বটে, কিন্তু তিনি হাজার টাকা হাতে গুজে না দিয়ে তাকে আসতে দেন না। সাথে ফ্রী গরম চা সিগারেটতো আছেই। হাওলাদার মশাই তার পুরনো রোগী। আবার বুড়ির উপর একটু রাগ হচ্ছে। এই সুযোগে বউকেও একটা উচিত শিক্ষা দেয়া যাবে। তাই সেও ধুলো পড়ে যাওয়া রেইন কোটটা গায়ে চাপিয়ে বুড়িকে না বলেই হাওলাদার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হল। পেছনে দরজা খোলাই থাকল।
হাওলাদার বাড়ি তার বাড়ি থেকে খুব বেশী দুরের পথ না। আধা কিলোর কম হবে। রাস্তায় অন্ধকার। তাই বৃষ্টিতে টর্চ জ্বেলেও হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে। টর্চের চার্যও শেষের দিকে। কে জানত তাকে এমন দিনে বাইরে বেরুতে হবে। বেশ কিছুদূর যাবার পর তার মনে হল যে তাকে ডেকেছে সে লোকটিকে একবারের জন্যও সে দেখতে পায়নি। এতে খুব অবাক লাগল তার । কি এমন তাড়া ছিল যে লোকটি তাকে না বলেই চলে গেছে? স্বপন ডাক্তার একবার ভাবল ফিরে চলে যাবে। কিন্তু বুড়ির উপর জেদের কাছে পরাজিত হল। তারপর প্রায় বিশ মিনিট অনেক কষ্ট করে হেঁটে অবশেষে হাওলাদার বাড়িতে পৌছুলো।
হাওলাদার সাহেবের প্রকাণ্ড বাড়ি। বাড়িতে থাকবার জায়গার অভাব না থাকলে কি হবে, থাকার মানুষ নেই। তার স্ত্রী গত হয়েছেন দেড় বছর আগে। দুই ছেলেই যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী। মেয়েটিও পরিবার নিয়ে কানাডা থাকে। স্ত্রী মারা যাবার পর মেয়ের কাছে বেশ কয়েক মাস ছিলেন। মেয়েটিও তাকে দেশে রেখে আবার বিদেশ চলে গেছে। যাবার আগে বলে গেছে, তার বাবাকে সেখানে দেখবার কেউ নেই। তারা স্বামী-স্ত্রী দুজনেই চাকুরী করে। তার মা মারা যাবার পর সে নাকি বেশ পাগলামো করতে শুরু করে দিয়েছিল। সেদেশের আইন কানুন অনেক কড়া। কোন অঘটন ঘটলে তাদের আর সেখানে থাকবার উপায় থাকবেনা। অনেকেই তার মেয়ের এই যুক্তিগুলো মেনে নিলেও এলাকার বেশিরভাগ মানুষই হাওলাদার সাহেবের ছেলে মেয়েদের প্রচুর সমালোচনা করে। হাওলাদার সাহেব আগা গোরাই খিট খিটে মেজাজের হওয়ায় কেউ তাকে পছন্দ করত না। লোকজন বাড়ির আশে পাশেও খুব একটা আসত না। দুই জন কাজের লোক দিন রাত তার দেখ ভাল করত।
বাড়িতে প্রবেশ করে স্বপন ডাক্তার কাজের লোক দুটির কাউকেই দেখতে পেলনা। বেশ পুরনো বাড়ি। হিন্দু সম্পত্তি কিনেছিলেন হাওলাদার সাহেব। বাড়ির এখানে ওখানেই মানুষের মূর্তি এখনো অক্ষত আছে। বাইরে ঘন অন্ধকার। চারদিকে বৃষ্টির আওয়াজ ছাড়া কিছুই স্বপন ডাক্তার কানে যাচ্ছিলোনা। বেশ অস্বস্তি লাগছিল তার। এমন ছমছমে পরিবেশে সে কখনো এ বাড়িতে আসেনি। সে খুব সাবধানে পা টিপে টিপে বাড়ির আঙ্গিনা পেড়িয়ে বারান্দায় উঠতে যাবে ঠিক তখনই হঠাৎ করে বাইরে মৃদু বিজলী চমকাল। আঁতকে উঠে স্বপন ডাক্তার সামনে চেয়েই ভয় পেয়ে গেল। তার মনে হল ঠিক তার সামনে একটি প্রকাণ্ড মূর্তি তার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে আছে। তার বুকটা ধক করে উঠল। আসলেই সেটা কি বুঝে উঠবার আগেই আকাশের আলো গায়েব হয়ে গেছে। সে নিজের টর্চ জ্বালালো। সামনে যেতে যেতে মুর্তিটিকে পার হয়ে গেছে ততক্ষনে। কি মনে করে আবারো সেই মুর্তিটির দিকে টর্চের আবছা আলো ফেলল। কিন্তু সাথে সাথেই টর্চ নিভিয়ে ফেলল। আবারো সে যা দেখল তা আর দেখতে চায়না। এতক্ষণ যা তার কাছে শুধু অদ্ভুত মনে হয়েছিল, এখন সেটা বাস্তব মনে হল। কারণ মুর্তিটি তখনো তার দিকে তখনো তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়েছিল। তাড়াহুড়ো করে সামানে এগুতে যেয়ে বৃষ্টিভেজা বারান্দায় সে পিছলে পড়ে গেল। স্বপন ডাক্তারের তখন মনে হল, আজ বুঝি তার আর রক্ষা নাই। ভীত কন্ঠে সে কাজের লোকের নাম ধরে ডাকতে যাবে ঠিক তখনই একটা ঘরের ভেতর থেকে কাউকে ডাকতে শুনলেন, “ডাক্তার মশাই, বাইরে দাঁড়িয়ে কি করেন? ভেতরে আসেন”।
অনেকটা হাওলাদার সাহেবের গলার আওয়াজ শুনে সে অনেকটা স্বস্তি পেল। এ বাড়িতে এমন অভিজ্ঞতা তার কখনো হয়নি। এসেই অন্যরকম অভ্যর্থনা পেত সে। কিন্তু সেদিন কাউকেই দেখছিল না। ভয় পাবার লোক সে নয়। কিন্তু আজ বেশ ভয় পাচ্ছে। যে ঘর থেকে হাওলাদার সাহেব ডেকেছিলেন, সে ঘরে প্রবেশ করে প্রবেশ করে দেখল, ঘরে কেউই নেই। জানালা খোলা, সেখান দিয়ে অনবরত বৃষ্টির ছাট ঘরে প্রবেশ করছে। বোঝাই গেল অনেকক্ষণ ধরেই এই ঘরে কেউ আসেনি। তাহলে তাকে ডাকল কে? কথাটা ভেবে তার শরীরে শিহরন এল। এই ঘরে হাওলাদার সাহেব থাকতেন না কখনোই। তিনি উপরের তলায় থাকেন। কাজের লোকদের নাম ধরে ডাকতে ডাকতে স্বপন ডাক্তার দোতালায় উঠে এল। উপরেও ঘন অন্ধকার। নিচে তাও কাজের লোকদের ঘরের বাতি থকে কিছু আলো পাওয়া যাচ্ছিল। উপরে এর ছিটা ফোটাও নেই। স্বপন ডাক্তার এইবার ভড়কে গেল। সে নিচে যে মুর্তিটিকে দেখেছে সে তার সম্মুখে আর যেতে চায়না। এর মানে তার এই বাড়ি থেকে বাইরে বেরুবার রাস্তা বন্ধ। এতক্ষণ ধরে ডাকাডাকি করেও কাউকেই সে দেখছেনা। একেতো লোকজনের কোন হদিস নেই, অপরদিকে যার ডাকে এখানে এসেছে তার দেখাও মিলছেনা। শুধু অদ্ভুত এক কন্ঠে কেউ তাকে নির্দেশনা দিচ্ছে। নানা কথা চিন্তা করে সে সামনে না এগিয়ে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে টর্চ লাইটের নিভু নিভু আলো মেরে চারদিক দেখতে লাগল। কে জানত এমন অন্ধকার বাড়িতে রাত বিরাতে এসে তাকে এমন বিপদে পড়তে হবে। এখন তার নিজের উপরেও খুব রাগ হচ্ছে। রাগের মাথায় কিছু না ভেবেই চলে এসেছে। মোবাইলটাও সাথে আনতে ভুলে গেছে। একসাথে এতগুলো ভুল তার হয়না। আজ দিনটাই বুঝি অশুভ। অন্য কেউ হলে এতক্ষনে নানা দেবতা প্রভুর নাম ধরে ডাকতে শুরু করে দিত। কিন্তু স্বপন ডাক্তার যে পনের বছর ধরে রাম নাম মুখেই আনেনা। সেই যে তার ক্যান্সার রোগী মৃতপ্রায় দিদির আরোগ্যের জন্য মান্নত করে সে ব্যর্থ হয়েছিল, তা থেকে সে আর কাউকেই প্রভু মানেনা।
হঠাৎ করেই স্বপন ডাক্তার তার নাম ধরে কাউকে ডাকতে শুনল। ততক্ষণে টর্চের চার্য একেবারেই শেষ। বুঝার উপায় নেই কে তাকে ডাকছে। মনে হচ্ছে দূর থেকে কেউ তাকে হাওলাদার সাহেবের মত করে ডাকছে, “ডাক্তার মশাই এইদিকে আসেন”। চারদিক থেকে এই ডাক প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। অথচ বাইরের বৃষ্টির আওয়াজ ছাড়া আর কিছুই কানে আসছেনা। কারো পায়ের আওয়াজও না। সেই ডাক বার কয়েক শোনার পর আর তা শোনা যাচ্ছেনা। তবে সে তার ঘাড়ের উপরে অজানা কোন শক্তির প্রভাব অনুভব করতে শুরু করেছে। সেটি তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে। স্বপন ডাক্তারের গলা দিয়েও কোন আওয়াজ বেরুচ্ছে না। চারদিকে পিনপতন নীরবতা। বাইরে বৃষ্টির আওয়াজও আর শোনা যাচ্ছেনা। ততক্ষণে সে একটি পচা দুর্গন্ধময় ঘরে এসে প্রবেশ করেছে। এরপরে কি ঘটবে সে অপেক্ষাতেই সে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিটি সেকেন্ড যেন তার কাছে এক একটি মিনিট মনে হচ্ছে। হঠাৎ করেই হালকা আওয়াজে বজ্রপাত হল। জানলা দিয়ে যে আলো ঘরে এল তাতে সে স্পষ্ট দেখতে পেল পচা গলা হাওলাদার সাহেবের লাশ বিছানার উপরে পড়ে আছে। আর সেই মুর্তির মত তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে লাশটির চোখদুটি ঠিক স্বপন ডাক্তারের দিকেই চেয়ে আছে। লাশ দর্শনের পর কিভাবে যেন সেই শক্তিটি তার ঘাড় থেকে সরে গেছে। সুযোগ পেয়ে স্বপন ডাক্তারও গলা ফাটিয়ে চিৎকার করতে করতে অজানা অন্ধকারে ছুটল।
পরদিন সকালে স্বপন ডাক্তারের আধা মৃত দেহ সেই মুর্তিটির কাছেই পাওয়া গেল। পুলিশ এলে আরও জানা গেল হাওলাদার সাহেবের দুই চাকরের কুকর্মের কথা। তারা দুজনেই চেলাই মদ আনতে গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা খেয়ে আজ সাত দিন ধরে হাজত বাস করছে। সবাই ভেবেছিল এখানেই বুঝি ঘটনার শেষ। কিন্তু স্বপন ডাক্তারের ঘটনা আরও রহস্যময় করতে আরেকটু এগুলো। কেউ তার স্ত্রীর কাছে দুর্ঘটনার খবর বলতে গেলে তাকে নাকি আশ্চর্য হতেই দেখা গেছে। কারণ সে বলছিল, তার পতি যদি হাওলাদার বাড়িতে যেয়ে থাকে, তাহলে সারা রাত ধরে তার পাশে লেপের তলায় কে শুয়ে ছিল?