Showing posts with label Djinn. Show all posts
Showing posts with label Djinn. Show all posts

ভূকা ২০ : কালীসাধিকার বান

আমার বাবা একজন সরকারী চাকরীজীবি ছিলেন। উনি জীবনে কখনই ভুত প্রেতে বিশ্বাস করতেন না- কিন্তু ভগবানকে খুবই বিশ্বাস করতেন। আমাদের গ্রামে আমার ঠাকুরদাদা ও বাবার বেশ সুনাম ছিলো এবং আছে। কিন্তু আমার বাবার শত্রুও ছিলো। আমার ঘরেরই শত্রু- আমার ছোট ঠাকুরমা। উনি আমার দাদুর ছোট ভাই এর বৌ ছিলেন এবং উনি কারো উন্নতি সহ্য করেন  না। কেউ উন্নতি করতে গেলেই উনি বাঁধা দিতেন-পরোক্ষ ভাবে।

আমার বাবা যখন আমাদের গ্রামেই ২ কাঠা জমি কিনেন বাবাদের চার ভাই মিলে তখন ঐ মহিলা আমার বাবাকে বাঁধা দেন মৌখিক ভাবে; বলেন উনার স্বামী-আমার ছোট দাদু মারা গেছেন নতুন জমি কিনে ওখানে পুকুর খুরতে গিয়ে। আমার বাবাও ঐ নতুন জমিতে পুকুর খোড়ার পরিকল্পনা করছিলেন। বাবা জানতেন ঐ মহিলার কান্ড কারখানা, তাই কিছু না বলে পুকুর খোঁড়ান, তারপর পুকুরপাড়ে গাছ লাগান অনেক।

এর ১ বছর পর বাবার হার্ট এর প্রবলেম শুরু হয়। বাবা কাউকে বলতেন না উনার অসুখের কথা-শুধু মা জানত। মা ডাক্তার দেখান বাবাকে। আমি তখন ঢাকায়। বাবাকে ডাক্তার অনেক চেকআপ করান - অসুখ শুধু পেলেন হার্ট এর একটা ভেইন পুরু হয়ে গেছে চর্বি জমে। এটা খুব সাধারণ অসুখ তাই ডাক্তার নরমাল হার্ট এর ঔষধ দিলেন।

এভাবে কিছু দিন চলল। আমি তখন ঢাকা-বাবার অসুখ বেড়ে গেল। ডাক্তাররা কোন রোগ ধরতে পারছিলেন না। এমন সময় মার মনে সন্দেহ হয়-উনি এক কালীসাধিকার কাছে যান। কালীসাধিকা বলেন বাবাকে বান মারা হয়েছে; মরণ বান। বাবার হাতে ১০ দিন বাকি আছে -১০দিনের মাঝে বান কাটা না হলে বাবা মারা যাবেন। কে মেরেছে জিজ্বাসা করতেই ঐ মহিলার নাম বলেন কালীসাধিকা - যদিও কোন দিনই উনারা পরিচিত ছিলেন না।

মা বান কাটান ১০০০ টাকা খরচ করিয়ে। বান কাটানোর পরে বাবা সুস্থ হয়ে ওঠেন অনেকটা। দিন তিনেক না যেতেই বাবা আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। মা আবার যান ঐ কালীসাধিকার কাছে-কালীসাধিকা আবার বান কাটেন-এবার নাকি ৭ দিনের মাঝে মারা যাওয়ার জন্য বান মেরেছিলেন।


এরপর বাবা আবার সুস্থ হলেন। এর মাঝে ঐ মহিলা বাবাকে দেখতে আসেন। বাবাকে দেখতে আসার ছলে বাবাকে আবার বান মারেন উনি। বাবা আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। এবার খুবই খারাপ অবস্থা হল বাবার। হাসপাতালে ভর্তি করা হল বাবাকে। আমার কাকারা মার একটা কথাও বিশ্বাস করতেন না। তাই উনারা ডাক্তার এর কথার উপর ভরসা করেন।ডাক্তাররা বাবার হার্ট ব্লক ছাড়া কোন রোগই ধরতে পারছিলেন না।

এমন সময় মা আবার ঐ কালীসাধিকার কাছে লোক পাঠালেন -আর নিজে বসে থাকলেন বাবার পাশে - কালীসাধিকা আবার বান কাটলেন-এবার একটা আস্ত ডাবের ভেতর থেকে গল গল করে রক্ত বের হয় - এ সময় আমার বাবার মুখ দিয়েও বেশ রক্ত ঝড়ে। এর আগে বাবা বিছানায় বেশ ছটফট করছিলেন - বান কাটার পর তিনি বেশ সুস্থ হন। ডাক্তার বিকেল বেলা ছেড়ে দেবেন জানান। আমি ঢাকা থেকে চলে গিয়েছিলাম চট্টগ্রাম-ডাক্তারের কথা শুনে আমিও বাসায় চলে আসি। বাবার পাশে শুধুই মা ছিলেন।
 এর এক ঘন্টা পরেই বাবা আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। কেউ বিশ্বাস করতে পারেনি যে ঐ মহিলা এক ঘন্টার বান মেরে বাবাকে মেরে ফেলতে পারেন।

বাবা এক সময় মারা যান। আমি শুনে স্থম্ভিত হয়ে পড়ি।

এরপর বাবাকে অনেকেই দেখেছে আমাদের গ্রামে যাওয়ার রাস্তায়। কেউ কেউ বাবার কান্না ও শুনেছে-কিন্তু যে আমি চাই বাবাকে খুব কাছে পেতে সেই আমার কাছে বাবা কখনোই দেখা দেননি। হয়তো আমি ভয় পাবো বলে। তবে এখনও কোন বিপদ হলেই তার আগে বাবাকে স্বপ্নে দেখি। দেখি বাবা হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন আমার মাথায় - ঠিক যেমনটা আমাকে দিতেন ৫ বছর আগে।


পাঠিয়েছেন:
nosto kobi


ভূকা ১৪ : জ্বিনের সাক্ষাতকার

কিছুদিন আগে এক চাচাতো ভাইয়ের সাথে গিয়েছিলাম তার নানা বাড়ী। চাচাতো ভাইয়ের নানা বাড়ী মানে আমারও নানা বাড়ী। নানার তিন ছেলে। মেঝ ছেলের নাম শরিফুল আলম। স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। কবিরাজী চিকিৎসার সাথেও জড়িত। মামার বোন মানে চাচীর কাছে ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি যে মেঝ মামার সাথে নাকি কোন এক জ্বীনের পরিচয় আছে। কিন্তু কখনোই বিশ্বাস করতে পারি নাই। কারণ জ্বিন মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাত করে সেটা কল্পনা করাও কঠিন।
যাই হোক আসল কথায় আসি। গত মার্চ মাসের ২৫ তারিখ, শুক্রবার রাতে আনুমানিক পৌনে এগারটার সময় মামা বললেন, ‘চল, এক জায়গায় যাই। তোকে একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব’। মামার সিডি-৮০ মোটর বাইকের পেছনে চড়ে বসলাম। গ্রামের ভেতর দিয়ে সশব্দে বাইক এগিয়ে চলল। মিনিট দশেক পরে আমরা গ্রাম পেরিয়ে মাঠের মাঝে একটা জায়গায় থামলাম। এখানে একটা বড় গাছের নীচে আমরা দাড়ালাম। কিছুক্ষন দুজন নিজেদের মধ্যে টুকিটাকি কথা বললাম। তারপর মামা সামনের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘ভাইজান আসতেছে’।

দেখলাম একজন লোক মাঠের ভেতর থেকে আইলের উপর দিয়ে হেটে রাস্তার দিকে আসছে। আমাদের থেকে ৪০/৫০ গজ দুরে হবে। রাতটা বেশি অন্ধকার না আবার আলোকিতও না। আকাশে হালকা মেঘ আছে। চাদের আলো মাঝে মাঝেই ঢেকে যাচ্ছে মেঘের আড়ালে। যাই হোক মানুষটি ক্রমশ আমাদের কাছে এগিয়ে আসছে। আমি ভেতরে ভেতরে শিহরিত হচ্ছি। কিছুটা ভয়ও লাগছে। মনে মনে সুরা ফাতেহা পড়া শুরু করলাম। আমার অবস্থা মামা কিছুটা আঁচ করতে পারলেন। বললেন, ‘ভয় নেই। তার সাথে কথা বলে দেখবি উনি যে জ্বিন সেটা টেরই পাবি না। স্বাভাবিক থাকিস’। উনি এখন আমাদের থেকে মাত্র দশ বারো হাত দুরে। উচু লম্বা একজন লোক বলে মনে হলো। হাত উচু করে সালাম দিলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম শরিফুল আলম ভাই। আসসালামু আলাইকুম ইয়াজিদ সিকান্দার ভাই’। বলতে বলতেই উনি আমাদের কাছে চলে এলেন। প্রথমে মামার সাথে আলিঙ্গন ও করমর্দন করলেন। ভয় পাচ্ছিলাম। তবুও মামা যেহেতু আলিঙ্গন করলেন। তাই বুকের ভেতর কিছুটা সাহস সঞ্চয় করলাম।

লোকটা প্রায় ৭ ফুট লম্বা। অনেকটা নীচু হয়ে আমাদের হয়ে আমার সাথে আলিঙ্গন করলেন। করমর্দন করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাই, ভয়ের কিছু নেই। আমিও আপনাদের মতই মহান আল্লাহর সৃষ্টি’।


তার কথায় আমার ভয় কিছুটা কেটে গেল। তাছাড়া স্পর্শ করার সময় মনে হলো আমি যেন কোন মানুষের সাথেই আলিঙ্গন করছি।
কুশল বিনিময় হলো। লোকটার শরীর যতটা বলিষ্ঠ, কন্ঠ ঠিক তার বিপরীত। কিছুটা ফ্যাসফ্যাসে মেয়েলী কন্ঠ।
নিজেই থেকেই বললেন, ‘ভাই, অবাক হচ্ছেন, না? অবাক হওয়ারই কথা। আমি শরিফুল ভাইয়ের অনুরোধে আজ আপনার সাথে সাক্ষাত করতে এলাম’।

এরপর আমরা রাস্তার পাশে একটা পড়ে থাকা একটা গাছের গুঁড়ির উপর যেয়ে বসলাম। জ্বিন ভাইটির সাথে অনেক কথা হলো। সব কথা মনেও নেই। ভীষন উত্তেজিত ছিলাম। তবে আমাদের আলোচনার মূল অংশটুকু আপনাদের জন্যে নীচে তুলে দিলাম।

আমিঃ ভাই, আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করছে। কোনটা রেখে কোন প্রশ্ন করি। তার চেয়ে আপনি নিজেই নিজের সম্পর্কে কিছু বলেন।
সোলায়মান জ্বিনঃ আমার নাম সোলায়মান বিন হুশশাম। সুলেমান নামেই পরিচিত। আমার বসত ভারতের কাস্মীর উপত্যকায় অবস্থিত বান্দিপোড়া জেলায়। আমার গ্রামের নাম সুবানগর। একেবারেই পাহাড় ঘেষা নিরিবিলি একটা গ্রাম। এখানে আমরা প্রায় দেড় হাজার জ্বিন-পরী বসবাস করি। এই গ্রামে কোন মানুষ বসবাস করে না। আমরা জ্বীনরাই গ্রামটির জন্ম দিয়েছি। প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে আমরা এখানে বসবাস করছি। আগে আমাদের পূর্ব পুরুষরা বসত করত। এখন আমরা করি।

গোটা পৃথিবীকে ৭টি এলাকায় বিভক্ত করে জ্বীনরা বসবাস করে। তবে আপনাদের মতো আমাদের এলাকাগুলো স্থল কেন্দ্রিক নয়। আমাদের এলাকাগুলো দ্বীপ কেন্দ্রিক। মোটামুটি নির্জন ও বিস্তীর্ন এলাকা আমাদের পছন্দ। পৃথিবীতে অনেক দ্বীপ আছে যেখানে কোন মানুষ বসবাস করে না। শুধু জ্বীন-পরীরা বসবাস করে। তবে স্থলেও প্রচুর জ্বিন পরীর বসবাস আছে। সবচেয়ে বেশি বসবাস রাশিয়া, ইরান, ভারত ও গ্রানাডায়।

আমিঃ সোলায়মান ভাই, পৃথিবীতে এখন কত জ্বিন আছে?
সোলায়মান জ্বিনঃ সেটা বলা মুশকিল। এক এলাকার জ্বিন অন্য এলাকায় যেতে পারে না। তাই অন্য এলাকার খবর রাখাও কঠিন। তবে মানুষের থেকে জ্বিন পরীর সংখ্যা অনেক কম হবে। জ্বিনের সংখ্যা সবচেয়ে কম। পরীরা বেশিদিন বাচে, আর তাদের সংখ্যাও অনেক বেশি।

আমিঃ সোলায়মান ভাই, আপনার পরিবার সম্পর্কে বলেন....
সোলায়মান জ্বীনঃ ভাই, আমার বয়স ২৭৮ বছর। আপনি হয়ত জানেন না আমরা জ্বিনেরা আপনাদের তুলনায় অনেকদিন বেশি বেচে থাকি। একেকজন জ্বিন সাধারনত গড়ে ৪৫০ বছর জীবিত থাকে। স্ত্রী জ্বিন অর্থাৎ পরীরা সাধারনত পাঁচশ বছর বেচে থাকে। আমার তিনজন বিবি আছেন। পাঁচটি কন্যা ও দুটি পুত্র আছে।

আমিঃ আপনারা কি সব ভাষায় কথা বলতে পারেন?
সোলায়মান জ্বীনঃ না (হেসে) ভাই, আমি বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, উর্দূ ও আসামিজ এই পাঁচটি ভাষা জানি। আমাদের গ্রামে একটি স্কুল আছে। সেখানে আমি ইংরেজি ও উর্দূ ভাষা শেখায়।

আমিঃ ভাষাগুলো কিভাবে শিখেছেন?
সোলায়মান জ্বীনঃ আমি প্রায় চল্লিশ বছর চট্টগ্রামে ছিলাম। সেখানে একটা স্কুলে বাংলা শিখেছি। ইংরেজি ও হিন্দি শিখেছি দিল্লীতে, উর্দূ শিখেছি আমার এক চাচার কাছে। উনি দীর্ঘ দীর্ঘদিন লাহোরে চিলেন। ভালো উর্দূ জানেন। আর আমার দাদী আসামিজ ভাষা ভালো জানতেন। তার কাছেই ওটা শিখেছি। মানুষ যেভাবে কোন বিদ্যা রপ্ত করে, আমরা জ্বিনরাও একই পদ্ধতিতে সেই বিদ্যা রপ্ত করি। আমরাও স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, লেখাপড়া করি। আমরা যে কোন স্তন্যপায়ী প্রানীর আকার ধারন করতে পারি। বাচ্চা ছেলে থেকে শুরু করে বুড়ো পর্যন্ত আকার ধারন করতে পারি।

আমিঃ আচ্ছা, আমি তো শুনেছি যেখানে আলো থাকে সেখানে আপনারা থাকেন না......
সোলায়মান জ্বীনঃ না ভাই, এটা ভুল ধারনা। অবশ্য অনেকেই এরকম মনে করে। আমরা দিন রাত যে কোন জায়গায় যে কোন সময় উপস্থিত হতে পারি। কোন অসুবিধা হয় না। কিন্তু ইয়াজিদ ভাই, আজ আপনাকে আর সময় দিতে পারছি না। আমাকে যেতে হবে।

শরিফুল আলমঃ সোলায়মান ভাই, আপনি আমার ভাগ্নের জন্যে দোয়া করবেন।
সোলায়মান জ্বীনঃ আবার দেখা হবে। ফি আমানিল্লাহ শরিফুল ভাই, ফি আমানিল্লাহ ইয়াজিদ ভাই....

এই বলে হাত নাড়তে নাড়তে বড় গাছটার ওপাশে চলে গেলেন। এরপর আর কোন সাড়া শব্দ নেই। কিছুক্ষন সময় লাগলো আমার ঘোর কাটতে। দৌড়ে গেলাম গাছের ওপাশে। না, কেউ নেই। পাশেই ধু ধু মাঠ, কোথাও কেউ নেই।
আমি আর মামা মোটর বাইকে চেপে ফিরে এলাম।

পোস্টের সমাপ্তি

[জ্বীন গবেষক ইয়াজিদ সিকান্দার সম্প্রতি কাশ্মীরের এক জ্বিনের সাথে সাক্ষাত করেছেন এবং উনার সাক্ষাতকার নিয়েছেন। এই লেখাটি তার কপি-পেস্ট]

ভূকা ১৩ : খবির মা

ঘটনাটি পাঠিয়েছেন অহিদ ছাদের ...

গ্রামে এবং আশে পাশে প্রায়ই দেখতাম এবাড়ীতে সেবাড়ীতে জ্বিন ভূতের রোগী। কোনো কোনো রোগী আবার দীর্ঘদিন যাবত ভুগে ভুগে এমন পর্যায়ে গেছে যে তার আর অব্যাহতির কোনো উপায় নেই। খবির মা নামে পরিচিত এক মহিলা ছিলো এমনই এক জ্বিনের রোগী যাকে আমরা তার মৃত্যু অবধি জ্বিন ঘাড়ে করে বেঁচে থাকতে দেখেছি। খবির মা অনেক সন্তানের মা। খবি নামের তার এক বড়ো মেয়ে ছিলো। খবির বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো এবং সে অন্য কোনো গ্রামে গৃহবধু হয়ে বসবাস করতো। খবিকে না চিনলেও আমরা তার মাকে তার নামেই চিনতাম। গ্রামে মা বাবা সাধারনতঃ বড়ো সন্তানের নামেই পরিচিত হয়। যেমন আমার বড়ো ভাইয়ের নাম শামছুল হওয়ায় আমার বাবাকে সবাই শামছুলের বাপ বলে ডাকতো। খবির মা নাকি আমাদের জন্মের আগে পুরোপুরি ভালো ছিলো। অনেক গুনবতী বউ হিসেবে ঘর সংসার করেছে, সন্তান লালন পালন করেছে। তার বেশ কিছু নাতি পুতিও ছিলো। কিভাবে তাকে জ্বিনে ধরেছিলো তা কখনো শোনা হয়নি। তবে খবির মার অস্বাভাবিক জীবন যাপন ও কথাবার্তা শুনেছি এবং দেখেছি অনেক কাছে থেকে।

খবির মা রাতে কখনো ঘুমাতো না। কন্কনে শীতের রাতে যখন আমরা লেপ কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাতাম তখন গভীর অন্ধকারের বুক চিরে খবির মা প্রত্যেক বাড়ির উঠান মাড়িয়ে কার সাথে যেনো গুনগুনিয়ে কি কথা বলতে বলতে হেঁটে যেতো। কখনো কাঁদতো, কখনো অট্টহাসিতে আটখান হয়ে পথ চলতো। তার কাছে শীত, গ্রীষ্ম আর বর্ষা সবই ছিলো সমান। বর্ষাকালে সারারাত মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে তার ভেতরেও খবির মা অন্ধকারের পর্দা মাড়িয়ে এ বাড়ী সে বাড়ী করে বেড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে খবির মার আপন জনেরা তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতো। কিন্তু তাকে হিতে বিপরীত হতো, তাছাড়া একজন মানুষকে কতকাল আর বেঁধে রাখা যায়?

গ্রামের মানুষ অনেক সময় ঘরের মূল অংশের ভেতরে না শুয়ে খোলামেলা বারান্দায় শুতে পছন্দ করে। বউ বা বড় মেয়ে থাকলে সামনে চাল থেকে নীচ অবধি একটা শাড়ি বা লুঙ্গি ঝুলিয়ে পর্দা করে নেয় যাতে বাইরের কেউ সচারাচার দেখতে না পারে। শোয়ার সময় মাথাটা ভেতরের দেয়ালের দিকে থাকে আর পা থাকে বাইরের দিকে তাক করা। খবির মা মাঝে মাঝে কি মনে করে কোনো কোনো বাড়ীতে থেমে আচমকা কারো পা ধরে টান দিতো। ঘুমের ভেতরে এমন টান খেয়ে ভয়ে ধুচমুচ করে উঠে অন্যদেরকে ডাকতে ডাকতে খবির মা ততোক্ষনে অনেক দূর পেরিয়ে যেতো। খবির মা অনেককে অনেকভাবে জালিয়েছে কিন্তু তাকে কেউ কিছু বলতোনা। কারণ সবাই জানতো সে আগে অনেক ভালো একজন মহিলা ছিলো। এখন সে যা করে তা সে নিজের ইচ্ছায় করেনা। তার ঘাড়ে যে জ্বিন ভর করে আছে সে-ই তাকে দিয়ে ওইসব করায়।

আমি যখন একটু বেড়ে উঠি, কিছুটা বুদ্ধিসাদ্ধি হয়েছে, সম্ভবতঃ ক্লাস থ্রী’তে পড়ি, খবির মা তখন বার্ধক্যে উপনীত। এক শীতের রাতে গভীর ঘুমের ভেতর চারিদিক থেকে আগুন আগুন শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায়। এক বাড়ীতে আগুনের লেলিহান দেখতে পাই। সবাই ছুটছে সেদিকে। কাছে গিয়ে দেখি আগুনটা এক বাড়ীর উঠানের এক পাশে। সে আগুনের মাঝে দাউ দাউ করে নির্বিকার জ্বলছে খবির মা। আমাদের এলাকাটা খেজুরের গাছ, খেজুরের রস এবং খেজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত। সকালে খেজুরের রস জালিয়ে গুড় বানানোর জন্য শীতকালে প্রত্যেক বাড়ীর আঙ্গিনায় বড়ো চুলা তৈরী করা হয়। এটাকে আমরা রসের বাইন বলি। সকালে গুড় জালানো শেষ হলেও বাইনের তলায় ছাইয়ের নীচে হয়তো কিছুটা আগুন থাকে। জ্বিন তাকে ওই রাতে ওই বাড়ীর বাইনের কাছে টেনে নিয়ে গেছে। সে ছাই খুচিয়ে খুচিয়ে আগুন বের করেছে। সে আগুন তার শাড়িতে লেগেছে, আশে পাশে শুকনো পাতায় লেগেছে। খবির মা নির্বাক প্রাণপন বাঁচার চেষ্টা করছে। সবাই গিয়ে যে যেভাবে পারে খবির মাকে আগুন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু খবির মাকে বাঁচানো যায়নি শেষাবধি। তার সমস্ত শরীর ঝলসে গিয়েছিলো। খবির মার প্রাণটা একদিন ধুকধুক করে বেঁচে মৃত্যুর কোলে ঢুলে পড়ে।

ভূকা ১১ : জিন থাকলে সম্ভব

(ইসহাক আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

একবার আমরা ঘরের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়লাম। চিকিৎসায় কাজ হলো না। পরীক্ষায় রোগ পাওয়া গেল না। তাহলে বৃত্তান্ত কি? বাবার একজন চাচাতো ভাই বললেন কবিরাজের কাছে যান। বাবা আমাকে নিয়ে গেলেন।

ভদলোক জানালেন, ঘরে নষ্ট আছে। ঘরের চালে আর খাটের নিচে।

একদিন লোকটি এলো।

বাড়ির বাইরে উঠোনে বসে কিছু বিড়বিড় করে বললো । তার্পরই উঠে ছুটে গেল ঘরের ভেতর। খাটের নিচে ঢুকে হাত দিয়ে মাটির মেঝে খুঁড়ে তাবিজ বের করলেন। ঘরের খুটি বেয়ে চালের টুয়া থেকে খামছে তাবিজ বের করলেন। চুলোর ভেতর খুড়ে তাবিজ বের করলেন। যেগুলো অবিশ্বাস্য হলেও আমি আমরা চাক্ষুষ করেছি। সাধারণ মানুষ খামছে খামছে চুলোর ভেতরের মাটি খুড়ে এক হাতের মত গর্ত করতে পারবে না। বা সাধার ভেজা মাটিতে হাতের কনুই পর্যন্ত গভীর গর্ত করতে পারবে না।

এখন যুক্তির কথা হলো যে, লোকটি আগেই হাতে তাবিজ রেখেছিলো। কিন্তু আমি তো সামনে। আর চুলোর ভেতর গর্ত করা কঠিন একটি ব্যাপার। লোকটি জানিয়েছিলো সাধারণ অবস্থায় সে এ কাজ করতে পারে না, সঙ্গে জিন থাকলে সম্ভব।





ভূকা ৪ : আমার জ্বীন দেখা

Shared by a CADET College Student.

তখন ক্লাশ ইলেভেনে । পাড়ার বখাটে ছেলে বলতে যা বোঝায় হাউসে আমাদের কয়েকজনের অবস্থা ছিল অনেকটা সেরকম যদিও নিজেদের আমরা খুব বস মনে করতাম । আমরা ৫ জন। আমি আরাফাত, ইফতি, আলীম, মেহেদী।
আমাদের হাউসে এক অদ্ভুত চিড়িয়া বাস করত । তার নাম মাহমুদ । শুরু থেকে সে হাস্যরস বিষয়বস্তু ছিল ।
এক টার্মে ছুটি থেকে কলেজে আসার পর দেখি তার অনেক চেঞ্জ । ফুলটাইম নামাজ কালাম পড়ে । অবসর সময়ে দোয়া-কালাম পড়ত এবং মাঝে মাঝে তাকে অনেক আগের কাজা হয়ে যাওয়া নামাজ পড়তে দেখতাম । গেমস টাইমে চিপায় চিপায় ঘুরত আর বিড়বিড় করে কি যেন বলত। হটাৎ সে আমাদের কাছে একটা বিরাট রহস্য হয়ে গেল ।
অনেকে তার এই পরিবর্তনের কারন জিজ্ঞেস করত কিন্তু উত্তর মিলত না । অনেক কাহিনী করার পর জানতে পারলাম জ্বীন সংক্রান্ত কোন কিছু । ভালমত চেপে ধরলাম । শুনলাম সে নাকি জ্বীন পালে ।
তখন রক্ত গরম । জ্বীন দেখতে হবে । যেভাবেই হোক । দেখতেই হবে।
জ্বীনের নাম মীম অথবা হামযা, আমার ঠিক মনে নাই। তার বাড়ি ক্রোকাব শহরে। তার সাথে এ্যাপয়েন্টমেন্ট করা হল । এদিকে আমরাও প্রিপারেশন নিচ্ছি। উত্তেনজনায় তখন আমরা …… । ইভিনিং প্রেপে আমরা ৫জন একসাথে প্ল্যান করছি তার সাথে দেখা হলে কি বলব, তাকে দিয়ে কি কি আনাব ( আমরা আগেই জেনেছিলাম তার ক্ষমতা সম্পর্কে)। ডিনারে কিছুই খাওয়া হল না কারন রাতে জ্বীন সাহেব আছেন । নাইট প্রেপ যেন আর শেষ হয় না।

অবশেষে হাউসে আসলাম, লাইটস অফের বেল পড়ল ।
রাত ১২টা ।
আমরা দুই পাশের করিডোরের সবগুলা লাইট বন্ধ করে দিয়েছি । অপেক্ষা করছি । কিন্তু মাহমুদ আর আসে না । আরো অনেক পর সে আসলো । কৈ গেছিলি ভয়ে জিজ্ঞেস করতে পারলাম না । এখনই জ্বীন ল্যান্ড করবে আমাদের রুমে। মাহমুদের রহস্যময় এবং ধার্মিক ইম্প্রেশনের কারনে আমরা সবাই মোটামুটি কনফিউসড । মনে হচ্ছে জ্বীন আসলেও আসতে পারে।
প্রসেস শুরু হল । আলো আধারিতে মাহমুদ কে মাঝখানে নিয়ে আমরা বসে আছি । হটাৎ মাহমুদ সেন্সলেস হয়ে গেল । অদ্ভুত এক গোঙানোর আওয়াজ তার মুখে । হটাৎ করে ভয় পেয়ে গেলাম । নানামুখী ভয় । যদি জ্বিন সতিই এসে থাকে প্রথমত তার উপস্থিতির ভয় এবং মাহমুদের খারাপ কিছু হয়ে গেল কি না তার ভয় । আমার মাথা ঝিম ঝিম করতে লাগল ।
জ্বিনের সাথে কথা বলছি । তার নাম পরিচয় নিয়ে বৃত্তান্ত কথাবার্তা হল । তিনি আমাদের পরিচয় জানলেন । জিজ্ঞেস করলাম আপনার কন্ঠস্বর মাহমুদের মত কেন ?
তার গোজামিল উত্তর । আমার রুমমেট ইফতেখার খোচা দিয়ে বুঝিয়ে দিল সে কিছুই বিশ্বাস করছে না । তখনও আমার মনে সংশয় । হয়ত ইনিই আসল হামযা সাহেব। তিনি নিজেকে একজন তাবেঈন বলেও দাবি করলেন ।
মেজাজ খারাপ হয়ে গেল যখন তিনি বললেন তিনি কলেজের বাইরে থেকে কিছুই এনে দিবেন না । তিনি পারেন কিন্তু দিবেন না । কত আশা করে একটা লিস্ট বানাইছিলাম … আফসোস !! সেই লিস্টে বাহারী সব আইটেম ।
সমস্ত ভয় কেটে গেল । ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলতে শুরু করলাম । দেখি জ্বীন যাইতে চায় ।

হুট করে বলে ফেললাম “মাহমুদ আ্যকটিং শেষ কর” ।
একটু পর জ্বীন চলে গেল । মাহমুদের জ্ঞান ফিরল একটু পর।
মাহমুদের আমাদের এইভাবে জ্বীন দেখায়ে গেল , পুরা __ হয়ে গেলাম । খুব ইজ্জতে লাগল । একটু হলেও ভয় পেয়েছিলাম এটাই আমদের ব্যার্থতা ।


ভূকা ১ : শয়তানের লুকানো ভৌতিক বার্তা?

ব্রিটিশ রক ব্যান্ড "Led Zeppelin"। ১৯৬৮ সালে গড়া দলটি পৃথিবীতে সব চাইতে জনপ্রিয়, প্রতিভাবান এবং অনুকরনীয় ব্যান্ড হয়ে স্বীকৃত হয়ে আসছে।
তাদেরই করা শতাব্দীর সেরা রক সং Led Zeppelin-Stairway to Heaven। গানটির গিটার লিডটি পৃথিবীর অনেক জরিপেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে।

 গানটির জনপ্রিয়তা পাবার সাথে সাথে বিতর্ক আছে বিস্তর। সব চেয়ে বড় অভিযোগ, গানটিতে নাকি শয়তানে বার্তা লুকানো আছে! 'ব্যাকমাসকিং' করলে সেই শয়তানে উপাসকদের আলাদা অশরীরী বার্তা শোনা যায়!
 উল্টো এমপিথ্রি এর ইউটিউব লিঙ্কঃ


Oh here's to my sweet Satan.
The one whose little path would make me sad, whose power is Satan.
He will give those with him 666.
There was a little tool shed where he made us suffer, sad Satan

সোজা এমপিথ্রি (মূল গানের ৪.২২ মিনিটে):

If there's a bustle in your hedgerow, don't be alarmed now,
It's just a spring clean from the May Queen
Yes, there are two paths you can go by, but in the long run
There's still time to change the road you're on

তবে এই ভৌতিক প্যারা নিয়ে নেটে বহু পক্ষ বিপক্ষ যুক্তি আছে। অনেকে বলে ভৌতিক প্যারার বিষয়টা কাকতালীয়। তবে যে কোন গান উল্টালে "কচকচানি" টাইপ শব্দ হবার কথা, কিভাবে এত বড় প্যারা/ধারাবাহিক অর্থ আমদানী হলো? সত্য মিথ্যা বিচার করার দায়িত্ব আপাতত আপনাদের হাতে তুলে দিলাম।