Showing posts with label জিন. Show all posts
Showing posts with label জিন. Show all posts

ভূকা ২২ : সর্বভুক জিন রাজু

নাম তার জিন রাজু। নামের মধ্যেই যেন চমক। সে কি খায়? তা জানার আগে জানতে হবে সে কি না খায়। জিন রাজু খায় কীটনাশক বাসুডিন, জ্যান্ত সাপ, ব্যাঙ, টিকটিকিসহ আরো কতো কি। দু'তিন কেজি ইউরিয়া সারও তার স্বাভাবিক খাবার। কখনো ফাঁসির দড়ি গলায় লাগিয়ে ঝুঁলে পড়ে গাছের ডালে!

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পাছপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম সরকারের ছেলে রাজু। ৭ ভাই ২ বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। ছোট বেলা থেকে দুর্দান্ত সাহসী ছেলে রাজু। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। বতর্মান বয়স ৩৫। প্রথম খায় বিষ: ক্লাস থ্রিতে তখন পড়ে রাজু। বয়স ১০ কি ১১ হবে। নিজেদের ফসলি ক্ষেতে পোকামাকড় দমনের জন্য এক বোতল কীটনাশক আনে বাবা। সেই কীটনাশক বোতল হাতে নিয়ে ভাবনায় মসগুল রাজু। এই বিষ খেয়ে পোকা মাকড় মরে। কিন্তু আমি খেলাম অথচ মরলাম না_এমন যদি কিছু একটা হয়ে যায়। নিশ্চয়ই চারদিক জানাজানি হবে। নাম খ্যাতি ছড়িয়ে পড়বে। এমনই এক ভাবনা থেকে তার শুরু। প্রথমে মাথার চুল কীটনাশক বোতলে ডুবিয়ে চুল চুষে চুষে খায়। এতে বমি বমি ভাব, মাথা ঘুরে পড়ে যায় সে। ২/১ দিন বন্ধ থাকার পর আবার শুরু। প্রতিদিন একবার। তারপর দুইবার চুষে খায়। ক্রমেই সহ্য এসে যায় তার। এক পর্যায়ে চুল বাদ দিয়ে সুতার আগা কীটনাশকে ভিজিয়ে খেতে শুরু করে। এরপর ড্রপারের সাহায্যে অভ্যস্ত হয়ে যায়। বতর্মানে সে বোতল দিয়েই কীটনাশক খেয়ে রীতিমতো সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। খাদ্য তালিকায় আর যা আছে: সাপ, তেলাপোকা, টিকটিকি, ইঁদুর, ব্যাঙ, গুঁইসাপ, বিড়াল, কুকুর, শিয়াল সবই তার খাবার। এক কথায় সর্বভুক রাজু। তবে তার শর্ত দুটি। এগুলো জীবিত এবং দেশি হতে হবে।

অনেক জায়গায় উণ্ডুক্ত মঞ্চে বিচিত্র এসব খাবার খেয়ে বিপুলসংখ্যক দর্শকের প্রশংসা পেয়েছে সে। ফাঁসিতে ঝোলা তার সর্বশেষ চমক: সাধনা তার চলছে। গলায় ফাঁস লাগানো দড়ি গাছে ঝুলিয়ে থাকেও সে কিছুক্ষণ। বিপজ্জনক কর্মে তার সাধনা চলছে দীর্ঘ এক যুগ ধরে। এ বিষয়টি নিয়ে তার উণ্ডুক্ত চ্যালেঞ্জ যুক্তিযুক্ত নাও হতে পারে ভেবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রহণ করেনি। ফলে সে নিজেকে অপ্রতিদ্বদ্বী মনে করে। কেমন করে জিন রাজু হয়ে ওঠা: অলৌলিক কিছু 'জিন' দ্বারাই সম্ভব বলে নিজ থেকে রাজু নামের সঙ্গে জিন শব্দটি যুক্ত করেছে বলে সে জানায়।

তার কর্মকাণ্ডও জিনের মতো অলৌকিক বলে মানুষও এ নামে ডাকে। এছাড়া, জিন রাজু ডাকটি তার নাকি খুব ভালো লাগে। এলাকায় একটি কথা লোকমুখে আছে, ছোট শিশু বাচ্চারা দুষ্টমি করলে কিংবা না ঘুমাতে চাইলে মায়েরা জিন রাজুর কথা বললেই সব ঠিক হয়ে যায়। ফ্রি চিকিৎসায় ছুটে চলা: সাপে কাটা কোনো রোগীর খবর পেলেই হলো। এক আজব আকর্ষণে ছুটে যেতে হয় তাকে। রোদ, বৃষ্টি, ঝড় বলে কথা নেই। ফ্রি চিকিৎসা তার গুরুর আদেশ। সামান্য পানিও পান করা যায় না রোগীর বাড়ি। এছাড়া, বাচ্চাদের বাতাস লাগা, রাতে বিছানায় প্রসাব করা, জিনে ধরা ইত্যাদি রোগেও চিকিৎসা করে সে। রাজুর নিজের কথা একদিনে এসব সাধন হয়নি। অনেক ধৈর্য, নীরব সাধনা করতে হয়েছে। ভারতের কামরূপ কামাখ্যায় থাকতে হয়েছে বেশ ক'বছর। ভাত, রুটির বদলে খেতে হয়েছে গাছের পাতা, বাকল। এক উপজাতি গুরুর শিষ্যত্ব পেয়ে ধন্য হয় জীবন।

তার বক্তব্য আমাদের দেশের বড় সমস্যা দারিদ্র্য। আমি এমন কিছু খাবার খেতে চাই যা খেয়ে দীর্ঘদিন না খেয়েও সুস্থ থাকা যায়। অনেক স্বপ্নই পারিবারিক দুরবস্থার জন্য সম্ভব হয় না। চর্চা চালাতেও হোঁচট খেতে হয় অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে। আমি যা খাই, হজম করি তা তিলে তিলে সাধনার ফল। আমার মতো শখ করে কেই যেন সর্বভুক না হয়। তাহলে কিডনি যাবে, পাকস্থলি যাবে, এমনকি যাবে স্বাদের এ জীবনটাই। রাজুর ইচ্ছে: অনেক দিনের সাধনা তার খ্যাতির জন্য। খ্যাতির জন্য মানুষ কি না করে। তার ইচ্ছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি অনুষ্ঠানে তার আজব খাবার-দাবারের দৃশ্য দেশবাসীকে দেখানো। প্রয়োজনে মিনিট দুয়েকের জন্য ফাঁসিতে ঝোলাও।

হানিফ সংকেতের ইত্যাদি তার প্রথম টার্গেট।

ইতমধ্যে স্যাটেলাইট একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রস্তাব পেলেও সে রাজি হয়নি। তার চাই বাংলাদেশ টেলিভিশন_এটি শহর-গ্রাম জনপদের সর্বসাধারণ দেখে। এমন সুযোগ পেলে তার স্বপ্ন পূর্ণতা পাবে, সার্থক হবে পরিশ্রম।


ভূকা ২১ : ভেন্টিলেটর দিয়ে জিন প্রবেশ করছে

সিলেট নগরীর ইলেকট্রিক সাপ্লাই রোডের দিগন্ত-২৭ হাজী ভিলার নিচতলা। বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে শুরু হয় জিকির আসকার। চলে রাতভর। গতকাল ভোর হতেই বাসার ভেতর থেকে ভেসে আসে জিকিরের সঙ্গে শোর-চিৎকার। এগিয়ে যান প্রতিবেশীরা। দরজায় কড়া নাড়েন, তবে খুলে দেয়নি কেউ। বাসার একটি রুমের জানালা দিয়ে পুলিশ ডাকতে বলেন ওই বাসার ভাড়াটে সপু চৌধুরী। সকাল সাড়ে ৭টায় পুলিশ এলে দরজা খোলেন বাসার মহিলারা। বাসার একটি রুম থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয় স্কলার্সহোম কলেজ থেকে এবার এইচএসসি পাস করা মেধাবী ছাত্রী সৈয়দা মারওয়া রিফাতকে। প্রথমে তাকে নগরীর একটি ক্লিনিক ও পরে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

রিফাতের ছোট ভাই সৈয়দ মারওয়ান রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, তার মা অনেক দিন থেকে মানসিক রোগে ভুগছেন। বাসায় জিন-ভূতের আগমন ঘটেছে বলে রাতে তিনি প্রায়ই চিৎকার করতেন। এক সপ্তাহ আগে তার মামা ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী দুবাই থেকে আসেন। দু'দিন পর থেকে মামার মধ্যেও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। বাসার কাজের বুয়া রুকিনার পরামর্শে তার মা দারস্থ হন রায়নগর দর্জিবন্দের কথিত পীর মা তফুরা বেগমের। 'পীর মা' সবকিছু শুনে বলেন, তাদের বাসায় জিন-ভূত 'আছর' করেছে। গত বুধবার থেকে তিনি জিন-ভূত তাড়ানোর চিকিৎসা শুরু করেন। চিকিৎসার জন্য একটি গরু ও এক ভরি স্বর্ণ দাবি করেন 'পীর মা'। তার চাহিদা অনুযায়ী গরু ও স্বর্ণের মূল্য বাবদ ৭৭ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয় বুধবার। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় পরিবারের সবাইকে পীর মায়ের কাছে নিয়ে যায় কাজের বুয়া। পীর মা তাদের 'ফুল ভেজা পানি' খেতে দেন। সঙ্গে দিয়ে দেন কয়েকটি তাবিজ এবং আরও কিছু পানি ও তেল পড়া। নির্দেশ দেন রাতভর জিকির আসকার করতে।

মারওয়ান জানায়, রাতের খাবার খেয়ে তারা সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। শুধু তার মা বাসার উত্তর পাশের রুমে উচ্চৈঃস্বরে জিকির করতে থাকেন। রাত ২টার দিকে তিনি সবাইকে ডেকে ঘুম থেকে তুলে বলেন, ঘরের ভেন্টিলেটর দিয়ে জিন-ভূত প্রবেশ করছে। তিনি সবাইকে নিয়ে ওই রুমে জড়ো হয়ে জিকির শুরু করেন। কাগজ দিয়ে বন্ধ করে দেন ঘরের সবক'টি ভেনটিলেটর। মুঠোফোনে পীর মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার পরামর্শ নেন। রুমের ভেতর কাগজ ও কাপড় পুড়িয়ে সবাইকে মুখের ভেতর ধোঁয়া নিতে বলেন। পীর মায়ের দেওয়া বিকট গন্ধযুক্ত পানি খেতে দেন সবাইকে। এরপর আবারও পীর মায়ের পরামর্শ নেন মুঠোফোনে। পীর মায়ের নির্দেশ অনুযায়ী বাসার সবাইকে নিয়ে বাথরুমে ঢুকে ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করেন। মেয়ে রিফাত ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করতে রাজি না হওয়ায় 'পীর মায়ের' পরামর্শে-নির্দেশে রিফাতকে বাথরুমে ঢুকিয়ে কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে বালতির পানিতে মাথা চুবাতে থাকেন মা সিদ্দিকা চৌধুরী ও মামা ইশতিয়াক চৌধুরী। এক সময় রিফাত অচেতন হয়ে পড়ে। থানা হাজতে আটক কাজের বুয়া রুকিনা বেগম জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে পীর মায়ের পরামর্শ অনুযায়ী সারা রাত জিকির করা হয়। এ সময় গৃহকর্ত্রী সিদ্দিকা চৌধুরী ও তার ভাই ইশতিয়াক চৌধুরী পরিবারের লোকজনকে মারধর করেন। 'পীর মা' তফুরার ছেলে থানাহাজতে আটক ইসলাম উদ্দিন জানান, সাত বছর বয়স থেকেই তার মা 'পীরাকি' পেয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার সারারাত তার মা জায়নামাজে বসে রিফাতের পরিবারের জন্য দোয়া করেছেন এবং মুঠোফোনে সিদ্দিকা চৌধুরীকে পরামর্শ দিয়েছেন। সিলেট কোতোয়ালি থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক নারায়ণ দত্ত জানান, কথিত 'পীর মা'কে আটক করতে তার আস্তানায় অভিযান চালানো হয়েছে। তবে তাকে পাওয়া যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কথিত পীরের বোন, ছেলে, ছেলের বৌ ও নিহতের বাসার কাজের মেয়েকে আনা হয়েছে।

ঢাকা, শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০১০, বাংলাদেশ প্রতিদিন


ভূকা ১৪ : জ্বিনের সাক্ষাতকার

কিছুদিন আগে এক চাচাতো ভাইয়ের সাথে গিয়েছিলাম তার নানা বাড়ী। চাচাতো ভাইয়ের নানা বাড়ী মানে আমারও নানা বাড়ী। নানার তিন ছেলে। মেঝ ছেলের নাম শরিফুল আলম। স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। কবিরাজী চিকিৎসার সাথেও জড়িত। মামার বোন মানে চাচীর কাছে ছোটবেলা থেকেই শুনে আসছি যে মেঝ মামার সাথে নাকি কোন এক জ্বীনের পরিচয় আছে। কিন্তু কখনোই বিশ্বাস করতে পারি নাই। কারণ জ্বিন মানুষের সাথে দেখা সাক্ষাত করে সেটা কল্পনা করাও কঠিন।
যাই হোক আসল কথায় আসি। গত মার্চ মাসের ২৫ তারিখ, শুক্রবার রাতে আনুমানিক পৌনে এগারটার সময় মামা বললেন, ‘চল, এক জায়গায় যাই। তোকে একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব’। মামার সিডি-৮০ মোটর বাইকের পেছনে চড়ে বসলাম। গ্রামের ভেতর দিয়ে সশব্দে বাইক এগিয়ে চলল। মিনিট দশেক পরে আমরা গ্রাম পেরিয়ে মাঠের মাঝে একটা জায়গায় থামলাম। এখানে একটা বড় গাছের নীচে আমরা দাড়ালাম। কিছুক্ষন দুজন নিজেদের মধ্যে টুকিটাকি কথা বললাম। তারপর মামা সামনের দিকে ইঙ্গিত করে বললেন, ‘ভাইজান আসতেছে’।

দেখলাম একজন লোক মাঠের ভেতর থেকে আইলের উপর দিয়ে হেটে রাস্তার দিকে আসছে। আমাদের থেকে ৪০/৫০ গজ দুরে হবে। রাতটা বেশি অন্ধকার না আবার আলোকিতও না। আকাশে হালকা মেঘ আছে। চাদের আলো মাঝে মাঝেই ঢেকে যাচ্ছে মেঘের আড়ালে। যাই হোক মানুষটি ক্রমশ আমাদের কাছে এগিয়ে আসছে। আমি ভেতরে ভেতরে শিহরিত হচ্ছি। কিছুটা ভয়ও লাগছে। মনে মনে সুরা ফাতেহা পড়া শুরু করলাম। আমার অবস্থা মামা কিছুটা আঁচ করতে পারলেন। বললেন, ‘ভয় নেই। তার সাথে কথা বলে দেখবি উনি যে জ্বিন সেটা টেরই পাবি না। স্বাভাবিক থাকিস’। উনি এখন আমাদের থেকে মাত্র দশ বারো হাত দুরে। উচু লম্বা একজন লোক বলে মনে হলো। হাত উচু করে সালাম দিলেন, ‘আসসালামু আলাইকুম শরিফুল আলম ভাই। আসসালামু আলাইকুম ইয়াজিদ সিকান্দার ভাই’। বলতে বলতেই উনি আমাদের কাছে চলে এলেন। প্রথমে মামার সাথে আলিঙ্গন ও করমর্দন করলেন। ভয় পাচ্ছিলাম। তবুও মামা যেহেতু আলিঙ্গন করলেন। তাই বুকের ভেতর কিছুটা সাহস সঞ্চয় করলাম।

লোকটা প্রায় ৭ ফুট লম্বা। অনেকটা নীচু হয়ে আমাদের হয়ে আমার সাথে আলিঙ্গন করলেন। করমর্দন করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ভাই, ভয়ের কিছু নেই। আমিও আপনাদের মতই মহান আল্লাহর সৃষ্টি’।


তার কথায় আমার ভয় কিছুটা কেটে গেল। তাছাড়া স্পর্শ করার সময় মনে হলো আমি যেন কোন মানুষের সাথেই আলিঙ্গন করছি।
কুশল বিনিময় হলো। লোকটার শরীর যতটা বলিষ্ঠ, কন্ঠ ঠিক তার বিপরীত। কিছুটা ফ্যাসফ্যাসে মেয়েলী কন্ঠ।
নিজেই থেকেই বললেন, ‘ভাই, অবাক হচ্ছেন, না? অবাক হওয়ারই কথা। আমি শরিফুল ভাইয়ের অনুরোধে আজ আপনার সাথে সাক্ষাত করতে এলাম’।

এরপর আমরা রাস্তার পাশে একটা পড়ে থাকা একটা গাছের গুঁড়ির উপর যেয়ে বসলাম। জ্বিন ভাইটির সাথে অনেক কথা হলো। সব কথা মনেও নেই। ভীষন উত্তেজিত ছিলাম। তবে আমাদের আলোচনার মূল অংশটুকু আপনাদের জন্যে নীচে তুলে দিলাম।

আমিঃ ভাই, আপনার সম্পর্কে অনেক কিছু জানতে ইচ্ছে করছে। কোনটা রেখে কোন প্রশ্ন করি। তার চেয়ে আপনি নিজেই নিজের সম্পর্কে কিছু বলেন।
সোলায়মান জ্বিনঃ আমার নাম সোলায়মান বিন হুশশাম। সুলেমান নামেই পরিচিত। আমার বসত ভারতের কাস্মীর উপত্যকায় অবস্থিত বান্দিপোড়া জেলায়। আমার গ্রামের নাম সুবানগর। একেবারেই পাহাড় ঘেষা নিরিবিলি একটা গ্রাম। এখানে আমরা প্রায় দেড় হাজার জ্বিন-পরী বসবাস করি। এই গ্রামে কোন মানুষ বসবাস করে না। আমরা জ্বীনরাই গ্রামটির জন্ম দিয়েছি। প্রায় আড়াই হাজার বছর ধরে আমরা এখানে বসবাস করছি। আগে আমাদের পূর্ব পুরুষরা বসত করত। এখন আমরা করি।

গোটা পৃথিবীকে ৭টি এলাকায় বিভক্ত করে জ্বীনরা বসবাস করে। তবে আপনাদের মতো আমাদের এলাকাগুলো স্থল কেন্দ্রিক নয়। আমাদের এলাকাগুলো দ্বীপ কেন্দ্রিক। মোটামুটি নির্জন ও বিস্তীর্ন এলাকা আমাদের পছন্দ। পৃথিবীতে অনেক দ্বীপ আছে যেখানে কোন মানুষ বসবাস করে না। শুধু জ্বীন-পরীরা বসবাস করে। তবে স্থলেও প্রচুর জ্বিন পরীর বসবাস আছে। সবচেয়ে বেশি বসবাস রাশিয়া, ইরান, ভারত ও গ্রানাডায়।

আমিঃ সোলায়মান ভাই, পৃথিবীতে এখন কত জ্বিন আছে?
সোলায়মান জ্বিনঃ সেটা বলা মুশকিল। এক এলাকার জ্বিন অন্য এলাকায় যেতে পারে না। তাই অন্য এলাকার খবর রাখাও কঠিন। তবে মানুষের থেকে জ্বিন পরীর সংখ্যা অনেক কম হবে। জ্বিনের সংখ্যা সবচেয়ে কম। পরীরা বেশিদিন বাচে, আর তাদের সংখ্যাও অনেক বেশি।

আমিঃ সোলায়মান ভাই, আপনার পরিবার সম্পর্কে বলেন....
সোলায়মান জ্বীনঃ ভাই, আমার বয়স ২৭৮ বছর। আপনি হয়ত জানেন না আমরা জ্বিনেরা আপনাদের তুলনায় অনেকদিন বেশি বেচে থাকি। একেকজন জ্বিন সাধারনত গড়ে ৪৫০ বছর জীবিত থাকে। স্ত্রী জ্বিন অর্থাৎ পরীরা সাধারনত পাঁচশ বছর বেচে থাকে। আমার তিনজন বিবি আছেন। পাঁচটি কন্যা ও দুটি পুত্র আছে।

আমিঃ আপনারা কি সব ভাষায় কথা বলতে পারেন?
সোলায়মান জ্বীনঃ না (হেসে) ভাই, আমি বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, উর্দূ ও আসামিজ এই পাঁচটি ভাষা জানি। আমাদের গ্রামে একটি স্কুল আছে। সেখানে আমি ইংরেজি ও উর্দূ ভাষা শেখায়।

আমিঃ ভাষাগুলো কিভাবে শিখেছেন?
সোলায়মান জ্বীনঃ আমি প্রায় চল্লিশ বছর চট্টগ্রামে ছিলাম। সেখানে একটা স্কুলে বাংলা শিখেছি। ইংরেজি ও হিন্দি শিখেছি দিল্লীতে, উর্দূ শিখেছি আমার এক চাচার কাছে। উনি দীর্ঘ দীর্ঘদিন লাহোরে চিলেন। ভালো উর্দূ জানেন। আর আমার দাদী আসামিজ ভাষা ভালো জানতেন। তার কাছেই ওটা শিখেছি। মানুষ যেভাবে কোন বিদ্যা রপ্ত করে, আমরা জ্বিনরাও একই পদ্ধতিতে সেই বিদ্যা রপ্ত করি। আমরাও স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই, লেখাপড়া করি। আমরা যে কোন স্তন্যপায়ী প্রানীর আকার ধারন করতে পারি। বাচ্চা ছেলে থেকে শুরু করে বুড়ো পর্যন্ত আকার ধারন করতে পারি।

আমিঃ আচ্ছা, আমি তো শুনেছি যেখানে আলো থাকে সেখানে আপনারা থাকেন না......
সোলায়মান জ্বীনঃ না ভাই, এটা ভুল ধারনা। অবশ্য অনেকেই এরকম মনে করে। আমরা দিন রাত যে কোন জায়গায় যে কোন সময় উপস্থিত হতে পারি। কোন অসুবিধা হয় না। কিন্তু ইয়াজিদ ভাই, আজ আপনাকে আর সময় দিতে পারছি না। আমাকে যেতে হবে।

শরিফুল আলমঃ সোলায়মান ভাই, আপনি আমার ভাগ্নের জন্যে দোয়া করবেন।
সোলায়মান জ্বীনঃ আবার দেখা হবে। ফি আমানিল্লাহ শরিফুল ভাই, ফি আমানিল্লাহ ইয়াজিদ ভাই....

এই বলে হাত নাড়তে নাড়তে বড় গাছটার ওপাশে চলে গেলেন। এরপর আর কোন সাড়া শব্দ নেই। কিছুক্ষন সময় লাগলো আমার ঘোর কাটতে। দৌড়ে গেলাম গাছের ওপাশে। না, কেউ নেই। পাশেই ধু ধু মাঠ, কোথাও কেউ নেই।
আমি আর মামা মোটর বাইকে চেপে ফিরে এলাম।

পোস্টের সমাপ্তি

[জ্বীন গবেষক ইয়াজিদ সিকান্দার সম্প্রতি কাশ্মীরের এক জ্বিনের সাথে সাক্ষাত করেছেন এবং উনার সাক্ষাতকার নিয়েছেন। এই লেখাটি তার কপি-পেস্ট]

ভূকা ১৩ : খবির মা

ঘটনাটি পাঠিয়েছেন অহিদ ছাদের ...

গ্রামে এবং আশে পাশে প্রায়ই দেখতাম এবাড়ীতে সেবাড়ীতে জ্বিন ভূতের রোগী। কোনো কোনো রোগী আবার দীর্ঘদিন যাবত ভুগে ভুগে এমন পর্যায়ে গেছে যে তার আর অব্যাহতির কোনো উপায় নেই। খবির মা নামে পরিচিত এক মহিলা ছিলো এমনই এক জ্বিনের রোগী যাকে আমরা তার মৃত্যু অবধি জ্বিন ঘাড়ে করে বেঁচে থাকতে দেখেছি। খবির মা অনেক সন্তানের মা। খবি নামের তার এক বড়ো মেয়ে ছিলো। খবির বিয়ে হয়ে গিয়েছিলো এবং সে অন্য কোনো গ্রামে গৃহবধু হয়ে বসবাস করতো। খবিকে না চিনলেও আমরা তার মাকে তার নামেই চিনতাম। গ্রামে মা বাবা সাধারনতঃ বড়ো সন্তানের নামেই পরিচিত হয়। যেমন আমার বড়ো ভাইয়ের নাম শামছুল হওয়ায় আমার বাবাকে সবাই শামছুলের বাপ বলে ডাকতো। খবির মা নাকি আমাদের জন্মের আগে পুরোপুরি ভালো ছিলো। অনেক গুনবতী বউ হিসেবে ঘর সংসার করেছে, সন্তান লালন পালন করেছে। তার বেশ কিছু নাতি পুতিও ছিলো। কিভাবে তাকে জ্বিনে ধরেছিলো তা কখনো শোনা হয়নি। তবে খবির মার অস্বাভাবিক জীবন যাপন ও কথাবার্তা শুনেছি এবং দেখেছি অনেক কাছে থেকে।

খবির মা রাতে কখনো ঘুমাতো না। কন্কনে শীতের রাতে যখন আমরা লেপ কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘুমাতাম তখন গভীর অন্ধকারের বুক চিরে খবির মা প্রত্যেক বাড়ির উঠান মাড়িয়ে কার সাথে যেনো গুনগুনিয়ে কি কথা বলতে বলতে হেঁটে যেতো। কখনো কাঁদতো, কখনো অট্টহাসিতে আটখান হয়ে পথ চলতো। তার কাছে শীত, গ্রীষ্ম আর বর্ষা সবই ছিলো সমান। বর্ষাকালে সারারাত মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে তার ভেতরেও খবির মা অন্ধকারের পর্দা মাড়িয়ে এ বাড়ী সে বাড়ী করে বেড়াচ্ছে। মাঝে মাঝে খবির মার আপন জনেরা তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখতো। কিন্তু তাকে হিতে বিপরীত হতো, তাছাড়া একজন মানুষকে কতকাল আর বেঁধে রাখা যায়?

গ্রামের মানুষ অনেক সময় ঘরের মূল অংশের ভেতরে না শুয়ে খোলামেলা বারান্দায় শুতে পছন্দ করে। বউ বা বড় মেয়ে থাকলে সামনে চাল থেকে নীচ অবধি একটা শাড়ি বা লুঙ্গি ঝুলিয়ে পর্দা করে নেয় যাতে বাইরের কেউ সচারাচার দেখতে না পারে। শোয়ার সময় মাথাটা ভেতরের দেয়ালের দিকে থাকে আর পা থাকে বাইরের দিকে তাক করা। খবির মা মাঝে মাঝে কি মনে করে কোনো কোনো বাড়ীতে থেমে আচমকা কারো পা ধরে টান দিতো। ঘুমের ভেতরে এমন টান খেয়ে ভয়ে ধুচমুচ করে উঠে অন্যদেরকে ডাকতে ডাকতে খবির মা ততোক্ষনে অনেক দূর পেরিয়ে যেতো। খবির মা অনেককে অনেকভাবে জালিয়েছে কিন্তু তাকে কেউ কিছু বলতোনা। কারণ সবাই জানতো সে আগে অনেক ভালো একজন মহিলা ছিলো। এখন সে যা করে তা সে নিজের ইচ্ছায় করেনা। তার ঘাড়ে যে জ্বিন ভর করে আছে সে-ই তাকে দিয়ে ওইসব করায়।

আমি যখন একটু বেড়ে উঠি, কিছুটা বুদ্ধিসাদ্ধি হয়েছে, সম্ভবতঃ ক্লাস থ্রী’তে পড়ি, খবির মা তখন বার্ধক্যে উপনীত। এক শীতের রাতে গভীর ঘুমের ভেতর চারিদিক থেকে আগুন আগুন শুনে ঘুম ভেঙ্গে যায়। এক বাড়ীতে আগুনের লেলিহান দেখতে পাই। সবাই ছুটছে সেদিকে। কাছে গিয়ে দেখি আগুনটা এক বাড়ীর উঠানের এক পাশে। সে আগুনের মাঝে দাউ দাউ করে নির্বিকার জ্বলছে খবির মা। আমাদের এলাকাটা খেজুরের গাছ, খেজুরের রস এবং খেজুরের গুড়ের জন্য বিখ্যাত। সকালে খেজুরের রস জালিয়ে গুড় বানানোর জন্য শীতকালে প্রত্যেক বাড়ীর আঙ্গিনায় বড়ো চুলা তৈরী করা হয়। এটাকে আমরা রসের বাইন বলি। সকালে গুড় জালানো শেষ হলেও বাইনের তলায় ছাইয়ের নীচে হয়তো কিছুটা আগুন থাকে। জ্বিন তাকে ওই রাতে ওই বাড়ীর বাইনের কাছে টেনে নিয়ে গেছে। সে ছাই খুচিয়ে খুচিয়ে আগুন বের করেছে। সে আগুন তার শাড়িতে লেগেছে, আশে পাশে শুকনো পাতায় লেগেছে। খবির মা নির্বাক প্রাণপন বাঁচার চেষ্টা করছে। সবাই গিয়ে যে যেভাবে পারে খবির মাকে আগুন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু খবির মাকে বাঁচানো যায়নি শেষাবধি। তার সমস্ত শরীর ঝলসে গিয়েছিলো। খবির মার প্রাণটা একদিন ধুকধুক করে বেঁচে মৃত্যুর কোলে ঢুলে পড়ে।

ভূকা ১১ : জিন থাকলে সম্ভব

(ইসহাক আহমেদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

একবার আমরা ঘরের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়লাম। চিকিৎসায় কাজ হলো না। পরীক্ষায় রোগ পাওয়া গেল না। তাহলে বৃত্তান্ত কি? বাবার একজন চাচাতো ভাই বললেন কবিরাজের কাছে যান। বাবা আমাকে নিয়ে গেলেন।

ভদলোক জানালেন, ঘরে নষ্ট আছে। ঘরের চালে আর খাটের নিচে।

একদিন লোকটি এলো।

বাড়ির বাইরে উঠোনে বসে কিছু বিড়বিড় করে বললো । তার্পরই উঠে ছুটে গেল ঘরের ভেতর। খাটের নিচে ঢুকে হাত দিয়ে মাটির মেঝে খুঁড়ে তাবিজ বের করলেন। ঘরের খুটি বেয়ে চালের টুয়া থেকে খামছে তাবিজ বের করলেন। চুলোর ভেতর খুড়ে তাবিজ বের করলেন। যেগুলো অবিশ্বাস্য হলেও আমি আমরা চাক্ষুষ করেছি। সাধারণ মানুষ খামছে খামছে চুলোর ভেতরের মাটি খুড়ে এক হাতের মত গর্ত করতে পারবে না। বা সাধার ভেজা মাটিতে হাতের কনুই পর্যন্ত গভীর গর্ত করতে পারবে না।

এখন যুক্তির কথা হলো যে, লোকটি আগেই হাতে তাবিজ রেখেছিলো। কিন্তু আমি তো সামনে। আর চুলোর ভেতর গর্ত করা কঠিন একটি ব্যাপার। লোকটি জানিয়েছিলো সাধারণ অবস্থায় সে এ কাজ করতে পারে না, সঙ্গে জিন থাকলে সম্ভব।





ভূকা ৪ : আমার জ্বীন দেখা

Shared by a CADET College Student.

তখন ক্লাশ ইলেভেনে । পাড়ার বখাটে ছেলে বলতে যা বোঝায় হাউসে আমাদের কয়েকজনের অবস্থা ছিল অনেকটা সেরকম যদিও নিজেদের আমরা খুব বস মনে করতাম । আমরা ৫ জন। আমি আরাফাত, ইফতি, আলীম, মেহেদী।
আমাদের হাউসে এক অদ্ভুত চিড়িয়া বাস করত । তার নাম মাহমুদ । শুরু থেকে সে হাস্যরস বিষয়বস্তু ছিল ।
এক টার্মে ছুটি থেকে কলেজে আসার পর দেখি তার অনেক চেঞ্জ । ফুলটাইম নামাজ কালাম পড়ে । অবসর সময়ে দোয়া-কালাম পড়ত এবং মাঝে মাঝে তাকে অনেক আগের কাজা হয়ে যাওয়া নামাজ পড়তে দেখতাম । গেমস টাইমে চিপায় চিপায় ঘুরত আর বিড়বিড় করে কি যেন বলত। হটাৎ সে আমাদের কাছে একটা বিরাট রহস্য হয়ে গেল ।
অনেকে তার এই পরিবর্তনের কারন জিজ্ঞেস করত কিন্তু উত্তর মিলত না । অনেক কাহিনী করার পর জানতে পারলাম জ্বীন সংক্রান্ত কোন কিছু । ভালমত চেপে ধরলাম । শুনলাম সে নাকি জ্বীন পালে ।
তখন রক্ত গরম । জ্বীন দেখতে হবে । যেভাবেই হোক । দেখতেই হবে।
জ্বীনের নাম মীম অথবা হামযা, আমার ঠিক মনে নাই। তার বাড়ি ক্রোকাব শহরে। তার সাথে এ্যাপয়েন্টমেন্ট করা হল । এদিকে আমরাও প্রিপারেশন নিচ্ছি। উত্তেনজনায় তখন আমরা …… । ইভিনিং প্রেপে আমরা ৫জন একসাথে প্ল্যান করছি তার সাথে দেখা হলে কি বলব, তাকে দিয়ে কি কি আনাব ( আমরা আগেই জেনেছিলাম তার ক্ষমতা সম্পর্কে)। ডিনারে কিছুই খাওয়া হল না কারন রাতে জ্বীন সাহেব আছেন । নাইট প্রেপ যেন আর শেষ হয় না।

অবশেষে হাউসে আসলাম, লাইটস অফের বেল পড়ল ।
রাত ১২টা ।
আমরা দুই পাশের করিডোরের সবগুলা লাইট বন্ধ করে দিয়েছি । অপেক্ষা করছি । কিন্তু মাহমুদ আর আসে না । আরো অনেক পর সে আসলো । কৈ গেছিলি ভয়ে জিজ্ঞেস করতে পারলাম না । এখনই জ্বীন ল্যান্ড করবে আমাদের রুমে। মাহমুদের রহস্যময় এবং ধার্মিক ইম্প্রেশনের কারনে আমরা সবাই মোটামুটি কনফিউসড । মনে হচ্ছে জ্বীন আসলেও আসতে পারে।
প্রসেস শুরু হল । আলো আধারিতে মাহমুদ কে মাঝখানে নিয়ে আমরা বসে আছি । হটাৎ মাহমুদ সেন্সলেস হয়ে গেল । অদ্ভুত এক গোঙানোর আওয়াজ তার মুখে । হটাৎ করে ভয় পেয়ে গেলাম । নানামুখী ভয় । যদি জ্বিন সতিই এসে থাকে প্রথমত তার উপস্থিতির ভয় এবং মাহমুদের খারাপ কিছু হয়ে গেল কি না তার ভয় । আমার মাথা ঝিম ঝিম করতে লাগল ।
জ্বিনের সাথে কথা বলছি । তার নাম পরিচয় নিয়ে বৃত্তান্ত কথাবার্তা হল । তিনি আমাদের পরিচয় জানলেন । জিজ্ঞেস করলাম আপনার কন্ঠস্বর মাহমুদের মত কেন ?
তার গোজামিল উত্তর । আমার রুমমেট ইফতেখার খোচা দিয়ে বুঝিয়ে দিল সে কিছুই বিশ্বাস করছে না । তখনও আমার মনে সংশয় । হয়ত ইনিই আসল হামযা সাহেব। তিনি নিজেকে একজন তাবেঈন বলেও দাবি করলেন ।
মেজাজ খারাপ হয়ে গেল যখন তিনি বললেন তিনি কলেজের বাইরে থেকে কিছুই এনে দিবেন না । তিনি পারেন কিন্তু দিবেন না । কত আশা করে একটা লিস্ট বানাইছিলাম … আফসোস !! সেই লিস্টে বাহারী সব আইটেম ।
সমস্ত ভয় কেটে গেল । ত্যাড়া ত্যাড়া কথা বলতে শুরু করলাম । দেখি জ্বীন যাইতে চায় ।

হুট করে বলে ফেললাম “মাহমুদ আ্যকটিং শেষ কর” ।
একটু পর জ্বীন চলে গেল । মাহমুদের জ্ঞান ফিরল একটু পর।
মাহমুদের আমাদের এইভাবে জ্বীন দেখায়ে গেল , পুরা __ হয়ে গেলাম । খুব ইজ্জতে লাগল । একটু হলেও ভয় পেয়েছিলাম এটাই আমদের ব্যার্থতা ।


ভূকা ৩ : জামশেদ

আমি তখন ইউনিভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। সেকেন্ড সেমিস্টার থেকে হলে সীট বরাদ্দ দেয়া হলো। হলে উঠে পড়লাম। নীচতলার একটা রুমে চারজন থাকার ব্যবস্থা। ঘরের চারকোনায় চারটা সিংগেল বেড রাখা, সাথে একটা করে টেবিল আর চেয়ার। আর একটা বুকশেলফ। ঘরের মাঝখানে করিডরের মত লম্বা জায়গা। সেখানে একটা আলনা রাখা।

ঘরের উত্তর দিকটাতে দুটো বড় জানালা। জানালার ওপারে একটা বড় বাগান। বাগান না বলে একটা জঙ্গল বলাই ভাল। একটা মালী বাগানটা দেখাশুনা করে।
আমার বেডটা ছিল একটা জানালার সামনে। আমার পাশে আর একটা জানালার সামনে যার বেড, তার নাম জামশেদ। প্রায় ছফুটের কাছাকাছি লম্বা। মুখভর্তি দাড়ি। ঘন কালো জোড়া ভুরু । কথা বলে খুব কম। গলার স্বর ও কেমন জানি কর্কশ আর ঝঁঝালো। তার সাথে দু-একটা কথা বলার পর, কথা চালিয়ে যাবার সাহস হলোনা। অন্য দুই রুমমেট তখনো হলে এসে উঠেনি।

আমার কখনো মায়ের আচল ছেড়ে বাড়ীর বাইরে এক রাত থাকার ও অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই এমনিতেই ছিলাম ভীতু প্রকৃতির। এই রকম অন্যরকম চেহারা আর অদ্ভুত স্বভাবের বিছানা-প্রতিবেশী দেখে মনে মনে প্রমাদ গুনলাম।

প্রথম দিনই রাতে ভালো ঘুম হলো না। ভয়ংকর স্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙলো মাঝরাতে। ঘুম থেকে উঠে দেখি পাশের বিছানায় জামশেদ নেই। ঘড়িতে দেখি রাত ২ টা ৩৭।

এত রাতে কোথায় গেল? আমার শীত লাগতে শুরু করলো। পানি পিপাসা লাগছে। পানি খেতে হলে ঊঠে রুমের বাইরে বের হয়ে আর ও ৩-৪ মিনিট বাগানের পাশ দিয়ে হেটে, কল থেকে ভরে নিয়ে আসতে হবে। মন কে স্বান্তনা দেবার চেষ্টা করলাম। ভাবলাম, জামশেদ মনে হয় পানি খেতে অথবা বাথরুমে গেছে। বিছানায় শুয়ে অপেক্ষা করছি। প্রায় ৩০ মিনিট কেটে গেল, জামশেদের ফেরার নাম নেই। দেশে তখনও মোবাইল এর চলন শুরু হয়নি।

আমার ততক্ষণে গলা শুকিয়ে কাঠ। থাকতে না পেরে কাঁপা কাঁপা পায়ে উঠে দাড়ালাম। চারিদিকে নিরবিচ্ছিন্ন নিস্তব্ধতা। জানালার বাইরে অদ্ভুত রকমের আলো-ছায়ার খেলা। সম্ভবত জোৎস্না রাতের আলো। আমি পানির জন্য ঘরের বাইরে বেরুলাম।

আমার গা ছমছম করছে। হলের বাইরে বাগানের পাশে আসতেই মনে হয় ১০ মিনিট কেটে গেল। বাগানের মাটিতে আলো-ছায়ের খেলায় এক রকম মায়াবী পরিবেশ। কিছু বুনো গাছের তলায় ঝরা পাতা উড়ে বেড়াচ্ছে। সেথায় হঠাত মনে হলো, একটা প্রাণীর অবয়ব। অবয়ব টা অনেক ছোট। আমি সেই ছায়াটার উৎস খোঁজার চেষ্টা করছি। ছায়াটাকে অনুসরণ করতে করতে একটা গাছের উপরের দিকে তাকাচ্ছি। হঠাৎ আমার হাত-পা জমে উঠল। তাকিয়ে দেখি, সেই গাছটার একটা উঁচু শাখায় লম্বা লম্বা হাত-পা ঝুলিয়ে বসে আছে জামশেদ।

আমি একটা গগন বিদারী চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারালাম। সে রাতের এর পরের ঘটনা আমার আর মনে নেই।