Showing posts with label অশরীরী. Show all posts
Showing posts with label অশরীরী. Show all posts

ভূকা ২৩ : নিশির ডাক

আমাদের গ্রামের বাড়িতে কোন একটা অনুষ্ঠান উপলক্ষে একবার অনেক আত্মীয়স্বজন এসেছিলো। অনুষ্ঠানটি হয় রাতর বেলা। অনুষ্ঠান শেষ হতে হতে অনেক রাত হয়ে যায়, ফলে যাদের বাড়ি দূরে তারা সবাই ঠিক করে যে আজ এখানেই থাকবে। মামার বাড়িতে মোট ৫ টা ঘর আর একটা বাংলো ঘর। বাংলো ঘরটা তেমন একটা ব্যবহার করা হয় না। বাংলো ঘরের ডান পাশে কিছুটা দূরে গোয়াল ঘর। যেহেতু, অনেকেই রাতে থাকবে, তাই ঘরের অভাব শর্ট পড়ে গেলো। তাই মামামামি সিদ্ধান্ত নিলো তারা তাদের ঘরটা ছেড়ে বাংলো ঘরে চলে যাবে। রাতটা সেখানেই কাটাবে।


তখন রাত প্রায় ২টা। মামার টয়লেট চাপায় তিনি জেগে উঠেন। উনি দরজা খুলে বাইরে উঠোনে একটু দূরেই প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিচ্ছিলেন। এমন সময় তিনি একটা শব্দ শুনতে পান। তিনি এদিক ওদিক তাকান। হটাৎ তার দৃষ্টি যায় গোয়াল ঘরের দিকে। তিনি দেখতে পান গোয়াল ঘর থেকে তাদের সাদা রঙের গরুটা কিভাবে যেনও বের হয়ে পড়েছে। মামার তখন মনে পড়ে গোয়াল ঘর সন্ধার পর সবসময় তালা লাগানো থাকে। গরুটা বের হয়ে সোজা হাঁটতে শুরু করে দেয়। গোয়াল ঘরের ঠিক পিছনেই একটা বড় আকারের ঝোপ। অনেকটা জঙ্গলের মত। মামা গরুটার পিছু নিলেন।


এদিকে মামার দেরি দেখে মামিরও ঘুম ছুটে যায়। তিনি বাইরে এসে দাঁড়ান এবং দেখতে পান মামা হাঁটছেন আর তার সামনে একটা সাদা কিছু। মামি ভয় পেয়ে চিৎকার করে মামাকে ডাক দেন। কিন্তু মামা মামির ডাক শুনতে পেয়েও না থেমে উল্টো হাঁটতে থাকেন। মামি ভয় পেয়ে ছুটে গিয়ে মামাকে থামান। মামা তখন কেমন যেন একটা ঘোরের মধ্যে ছিলেন। তিনি বার বার বলতে থাকেন, “আমাদের গরুটা চলে যাচ্ছে। আমাদের গরুটা চলে যাচ্ছে।” কিন্তু মামি বলেন ঐটা আমাদের গরু না, তারপর তাকে জোর করে ঘরে নিয়ে আসেন। সকালে মামামামি ২জনই গোয়াল ঘোরের তালা পরীক্ষা করে দেখেন তালা দেয়াই আছে। আর সবকটা গরুই ঠিকঠাক মতন নিজ নিজ জায়গায় আছে। মামি তখন মামাকে বলেন, গতকাল রাতে তাকে “নিশা” ডাকছিল। মামি যদি তখন না উঠতেন ঘুম থেকে আর মামাকে না থামাতেন, তাহলে গরু রূপি “নিশা” মামাকে বনের ভেতর নিয়ে মেরে মাটিতে গলা অব্দি পুঁতে রাখতো।


ভূকা ১৭ : অভিশাপ

খুবই একরোখা স্বভাবের ছিলেন আমাদের তানিয়া খালামনি। তবে পরিচিত জনের কাছে অনেক বেশি উচ্ছল ছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করে যেন উনার কি হয়ে গেল! কলেজে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। কারো সাথে তেমন একটা কথাও বলেন না।
কিছুদিন পর হঠাৎ উনার হাত পা ফুলে যেতে লাগলো। তাই উনাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলেন আমার মামা। ডাক্তার অনেক কিছুই পরীক্ষা করতে দিলেন কিন্তু কিছুই ধরতে পারলেন না। ধীরে ধীরে উনার অবস্থা অনেক বেশি খারাপ হতে লাগলো। অনেক ডাক্তার দেখানো হল কিন্তু কেউই কিছু ধরতে পারলেন না। এদিকে তানিয়া খালামনি দিনকে দিন আর বেশি নিস্তেজ হয়ে পড়তে লাগলেন। সারাদিন শুধু কান্নাকাটি করতেন।

 তানিয়া খালামনি এর কিছুদিন পর মারা যান।

 মারা যাওয়ার কয়েক মাস আগে উনার গায়ের চামড়া খসে খসে পড়া শুরু করে। উনার পুরো শরীর এক বীভৎস রূপ নেয়। বাড়ির সকলে এই ব্যাপারে অনেক বেশি চেষ্টা করেও কিছু জানতে পারেনি। অবশেষে, ১২ই ডিসেম্বর না ফেরার দেশে চলে যান তিনি।
তানিয়া খালামনি মারা যাওয়ার বেশ কিছুদিন পর, যখন মোটামুটি সবাই তার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর কথা ভুলতে বসেছে তখন তার মৃত্যুর আসল রহস্য উন্মোচিত হয়। তানিয়া খালামনির ডায়েরি লেখার অভ্যাস ছিল। মৃত্যুর কারনটা জানা যায় সেই ডায়েরি পড়ে। সেটায় স্পষ্ট ভাবে লেখা ছিল সব। তানিয়া খালামনি লিখেছিলেনঃ

“.........আজ আমি বিরক্ত হয়ে একটা বিড়ালের গায়ে গরম পানি ঢেলে দেই। কিন্তু, আশ্চর্যের ব্যাপার হল, দুপুরে ঘুমানোর সময় আমি বিড়ালটাকে স্বপ্নে দেখতে পাই। বিড়ালটা আমাকে ৪ টুকরো আপেল খেতে দেয়, কিন্তু, এক টুকরো খেয়েই আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।”

“.........আজ আবার বিড়ালটা আমার স্বপ্নে এসেছিলো। আমি যেন শুনতে পাই যে ওটা স্পষ্ট ভাষায় বলছে, “আমাকে যেভাবে কষ্ট দিলি, তোকেও সেভাবে কষ্ট পেতে হবে।”এরপর বিড়ালটি তার আকার পরিবর্তন করে খুব ভয়ঙ্কর একটা রূপ নেয়।”


ডায়েরিতে এতটুকু পর্যন্ত লেখা ছিল।

ডায়েরির উপরের ঘটনাটুকু পড়ার পর কারোই আর বুঝতে বাকি থাকে না যে, ঐ বিড়ালটা কোন সাধারন বিড়াল ছিল না। বরঞ্ছ অশরীরী টাইপের কিছু ছিল। গরম পানি ঢেলে দেয়ায় বিড়ালটার গায়ের চামড়া যেমন খসে খসে পড়ে, তেমনি তানিয়া খালামনির গায়ের চামড়া ও খসে খসে পড়েছিল।


::সংগৃহীত::